মিছিলেও প্রেম হোক ভেঙ্গে যাক মোহ তুমি সাজো ব্যারিকেডে আমি বিদ্রোহ। যুদ্ধের মাঝে পাওয়া গেল খানিকটা এইরকমই নিদর্শন।
পশ্চিম এশিয়ার আকাশে বারবার বাজছে সতর্কতার সাইরেন। শহরের মানুষ দৌড়চ্ছেন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। যুদ্ধের সেই চরম উত্তেজনায় ভারী হয়ে ওঠা মুহূর্তকে হালকা করে তুলছে ‘বোমা আশ্রয় ডেটিং অ্যাপ’। ( Bomb shelting dating)
শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও, ইজরায়েলের বিদেশ মন্ত্রক একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টেই এই ধারণার কথা সামনে আসে। অর্থাৎ ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতার সময় আশ্রয়কেন্দ্রে ঢোকার মুখে রাখা থাকবে একটি QR কোড। সেটি স্ক্যান করলেই জানা যাবে, ওই আশ্রয়ের ভেতরে আর কোন কোন অবিবাহিত মানুষ উপস্থিত আছেন।
এই পরিকল্পনাটি যুক্ত হয়েছে ‘হুকড’ নামে একটি স্পিড-ডেটিং প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে। মূলত সামাজিক পরিবেশে দ্রুত মানুষের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেওয়ার জন্য তৈরি এই প্ল্যাটফর্ম। যুদ্ধের মত সংকটকালীন পরিস্থিতিতেও নতুন পরিচয়ের দরজা খুলে দিতে পারে।
আকাশ জুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র। বাইরে সাইরেন বাজছে। সতর্কতা ও প্রাণ বাঁচানোর খাতিরে মানুষ দৌড়ে ঢুকছেন বাঙ্কারে। আর ভেতরে বসে কেউ কেউ ফোনে QR কোড স্ক্যান করে খুঁজচ্ছেন আলাপচারিতার সুযোগ। আতঙ্কের সেই অপেক্ষার সময়ে হয়তো শুরু হচ্ছে সম্পর্কের প্রথম সমীকরণ। সেখান থেকেই জন্ম নিতে পারে জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের গল্প।
যদিও এই ধারণাটি যতটা কৌতূহল জাগিয়েছে, ততটাই বিতর্কের আগুনও জ্বালিয়েছে।
ভাইরাল পোস্টে আরও কয়েকটি অদ্ভুত ডিজিটাল টুলের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন “বোমা আশ্রয় ট্র্যাকার”। এটি নাকি গুনে রাখে কতবার সাইরেন শুনে একজন ব্যবহারকারীকে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটতে হয়েছে। এমনকী গভীর রাতের সাইরেনে কতটা ঘুম নষ্ট হয়েছে। তারও হিসাব দেয় এই টুল।
আরও মজার এক অ্যাপের নাম “শাওয়ার রিস্ক ফোরকাস্ট”। সাম্প্রতিক সাইরেনের ধরণ বিশ্লেষণ করে এটি আন্দাজ করে কখন আবার সতর্কতা বাজতে পারে। অর্থাৎ, এখন স্নান করার কী সঠিক সময়? সাবান মাখা অবস্থায় দৌড়াতে হবে না তো বাঙ্কারে। সেই দুশ্চিন্তারও যেন ডিজিটাল সমাধান!
এই অদ্ভুত আইডিয়া নজর কেড়েছে ইজরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবিরও। পোস্টটি শেয়ার করে তিনি রসিকতা করে লিখেছেন, হয়তো কোনও দম্পতি একদিন তাদের সন্তানদের বলবে, আমাদের প্রথম দেখা হয়েছিল একটি আশ্রয়কেন্দ্রে। যখন আমরা ক্ষেপণাস্ত্র থেকে বাঁচতে দৌড়ে ঢুকেছিলাম।
তবে সবাই এই সুরে সুর মেলাননি। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, জীবন-মৃত্যুর আশ্রয়স্থলকে ডেটিংয়ের সুযোগে পরিণত করা অনুচিত। এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, মানুষ মারা যাচ্ছে। শোকে দিন কাটছে মানুষের। এটা নিয়ে মজা করবেন না।
অন্যদিকে ইন্টারনেটের স্বভাবসুলভ ব্যঙ্গও কম ছিল না। কেউ লিখেছেন, বোমা পড়ার আগে আপনার ‘বোমা’র সঙ্গে দেখা করে নিন! আরেকজনের মন্তব্য, সঙ্কটেই খুঁজে নিন ভালোবাসা। এটাই যেন নতুন ডিজিটাল যুগ।
এই ভাইরাল ধারণা হয়তো বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে তা সময়ই বলবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট যুদ্ধের অন্ধকার সময়েও মানুষ স্বপ্ন দেখে। এগিয়ে যেতে চায় আগামীর স্বপ্নে।

