ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ফের নতুন করে সংঘাতের মোড় নিয়েছে। (Iran-Israel Ceasefire) যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মাঝেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও পাল্টা বিমান হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই আবহে দুই দেশকেই অবিলম্বে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথমবার সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও পাল্টা সামরিক অভিযানের ঘটনা ঘটেছে। (Iran-Israel Ceasefire) এর জেরে পশ্চিম এশিয়াে ফের বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সোমবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট বার্তা দেন। তিনি লেখেন, “ইজরায়েল এবং ইরানকে অবিলম্বে গুলি চালানো বন্ধ করতে হবে।” একই সঙ্গে তিনি জানান, দুই দেশই সংঘাতের দ্রুত অবসান চায় এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আলোচনা এগোচ্ছে।
(Iran-Israel Ceasefire) যুদ্ধবিরতির মাঝেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
রবিবার গভীর রাতে উত্তর ইজরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় সাইরেন বেজে ওঠে। ইজরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। হামলার খবর পাওয়ার পরই দেশের বিভিন্ন অংশে নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ওয়াশিংটনে ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার জানান, ইরান মোট ১১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তাঁর অভিযোগ, যুদ্ধবিরতির শর্ত ভেঙেই এই হামলা চালানো হয়েছে। সেই কারণেই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং কৌশলগত পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানছে ইজরায়েল।
ইরানের শিল্পাঞ্চলে ইজরায়েলের পাল্টা হামলা
ইরানি হামলার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইজরায়েল বিমান অভিযান শুরু করে। দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের মাহশাহর পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় হামলা চালানো হয়।
(Iran-Israel Ceasefire) ইরানের সরকারি ও বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কমপ্লেক্সের কয়েকটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে কর্মীদের আগেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি। ইরান প্রশাসনের দাবি, চলতি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ওই শিল্পাঞ্চলের অন্তত পাঁচটি উৎপাদন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে ইজরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শুধু শিল্পাঞ্চল নয়, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক সক্ষমতার বিভিন্ন অংশকেও নিশানা করা হয়েছে।
শান্তির বার্তা দিলেও সতর্ক ট্রাম্প
নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যেই কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন। আমেরিকান সূত্রের দাবি, সম্প্রতি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ট্রাম্প।
আমেরিকান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে অতিরিক্ত সামরিক অভিযান থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং এই মুহূর্তে নতুন হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।ট্রাম্প আরও জানান, চূড়ান্ত সমঝোতার পথে আলোচনা এগোচ্ছে। তবে কোনও পক্ষের “অজ্ঞতা বা হঠকারিতা” সেই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
পশ্চিম এশিয়াে উদ্বেগ বাড়ছে
ইরান-ইজরায়েল উত্তেজনার পাশাপাশি লেবাননেও পরিস্থিতি অশান্ত। (Iran-Israel Ceasefire) যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চললেও ইজরায়েল এখনও হেজবুল্লার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। ইজরায়েলের দাবি, হেজবুল্লা-বিরোধী অভিযান এবং ইরানকে কেন্দ্র করে চলা আলোচনা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও পাল্টা আঘাত প্রমাণ করছে যে যুদ্ধবিরতি এখনও অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। কূটনৈতিক আলোচনা চললেও সামান্য উসকানিতেই পরিস্থিতি ফের পূর্ণমাত্রার সংঘাতে রূপ নিতে পারে। ফলে পশ্চিম এশিয়াে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা এখন বড় পরীক্ষার মুখে।
আরও পড়ুন: ইরান সফরে নিষেধাজ্ঞা, ভারতীয়দের দ্রুত দেশ ছাড়ার নির্দেশ সরকারের

