মার্কিন রাজনীতিতে বিতর্কের আরেক নাম যেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার পাওয়ার স্বপ্ন দেখালেও শেষ পর্যন্ত তা অধরাই থেকে গেছে ট্রাম্পের। কাজেই নোবেল স্বপ্ন ছেড়ে এবার ফের পুরনো মেজাজেই ফিরছেন ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে চলা যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে এবার আবার তার নজর পড়েছে কিউবা-য়।
সম্প্রতি ভেনেজুয়েলা ও ইরানে আঘাত হেনেছেন ট্রাম্পের দেশ। মুখে শান্তির কথা বললেও আদতে যুদ্ধ পাগল মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর আগ্রসন নীতির নতুন সংযোজন কিউবা। যদিও আপাতত তাঁর মূল লক্ষ্য ইরানের সঙ্গে চলা সংঘাত শেষ করা, এমনটাই দাবি করেছেন নিজেই।Donald Trump
হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, আপাতত ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের পরিস্থিতি সামাল দেওয়াই আমেরিকার প্রধান লক্ষ্য। সম্প্রতি তিনি ইন্টার মিয়ামি সিএফ-এর মেজর লিগ সকার চ্যাম্পিয়নশিপ উদযাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই সাংবাদিকদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, “আমরা আগে ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধটা শেষ করতে চাই।” তবে এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। সাংবাদিকদের দিকে তাকিয়ে খানিকটা রহস্যময় ভঙ্গিতেই বলেন, “আর মাত্র কিছুটা সময়ের ব্যাপার, তারপর আপনারা আবার কিউবাতে যাবেন।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে ইতিমধ্যেই নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, কিউবা নাকি আমেরিকার সঙ্গে এক নতুন চুক্তি করতে আগ্রহী। তাঁর কথায়, ভবিষ্যতে অনেক কিউবান-আমেরিকান আবার কিউবায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।Donald Trump
অন্যদিকে, ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, সেখানকার নেতারা নাকি এখন যুদ্ধ শেষ করার জন্য আলোচনায় বসতে চাইছেন। তাঁর দাবি, ইরানের পক্ষ থেকেই যোগাযোগ করা হচ্ছে। ট্রাম্পের ভাষায়, “ওরা ফোন করে জানতে চাইছে, কীভাবে আমরা একটা চুক্তিতে পৌঁছাতে পারি।” ইরানের কূটনীতিকদের উদ্দেশে ট্রাম্প আরও বলেন, যারা সহযোগিতা করবে তারা একটি নতুন ও উন্নত ইরান গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে। তবে সংঘাত চালিয়ে গেলে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও পরিস্থিতি এখন কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে বলেও দাবি ট্রাম্পের। তাঁর বক্তব্য, পরিস্থিতি সামাল দিতে আমেরিকাকে সাময়িকভাবে তাদের নীতিতে কিছু পরিবর্তন আনতে হয়েছে। হোয়াইট হাউস সূত্রে খবর, এই মুহূর্তে ইরান সংঘাতকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে আমেরিকা। তবে এই সংঘাত শেষ হলে মার্কিন কূটনৈতিক কৌশলের পরবর্তী বড় লক্ষ্য যে কিউবা হতে পারে, তার ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন ট্রাম্প।Donald Trump
এই ঘটনার পর সমালোচকরা বলছেন, শান্তির পুরস্কার না পেলেও বিশ্ব রাজনীতির দাবার বোর্ডে নতুন নতুন চাল চালতে ট্রাম্প কিন্তু একেবারেই থামতে রাজি নন।

