পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা ইরান–ইজরায়েল সংঘাত শীঘ্রই শেষ হতে পারে- এমনই ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প(Donald Trump)। তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্ব জুড়ে শেয়ার বাজারে আশাবাদী পরিবেশ তৈরি হয়। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আস্থা ফিরে আসায় এশিয়া থেকে আমেরিকা বেশিরভাগ বাজারেই শেয়ারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
সোমবার ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে চলা এই যুদ্ধ “খুব দ্রুতই শেষ হয়ে যেতে পারে” এবং সামরিক অভিযানের লক্ষ্য অনেকটাই পূরণ হয়ে গেছে। তাঁর দাবি, পরিস্থিতি দ্রুত স্থিতিশীল করার দিকেই এগোচ্ছে আমেরিকা ও ইজরায়েল। তিনি আরও জানান, যুদ্ধ কখন শেষ হবে তা নিয়ে তিনি নিয়মিত আলোচনা করছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu এর সঙ্গে। দু’দেশ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সঠিক সময়ে যুদ্ধ শেষ করার সিদ্ধান্ত নেবে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরেই আন্তর্জাতিক শেয়ার বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে। যুদ্ধের কারণে গত কয়েক দিনে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গিয়েছিল এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। তবে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হতে পারে এই বার্তা পাওয়ার পর বাজারে সেই উদ্বেগ অনেকটাই কমে যায়। এর ফলেই এশিয়ার বিভিন্ন শেয়ার বাজারে লেনদেন বাড়তে শুরু করেছে।
বিশ্ববাজারের এই ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ডাও, ন্যাসডাক- সহ বিশ্বের বিভিন্ন মার্কেটর সূচক বাড়তে থাকে। ভারতের শেয়ার বাজারেও তার প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। মঙ্গলবার সকালে লেনদেন শুরু হতেই BSE Sensex ও Nifty সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়। সেনসেক্স কয়েকশো পয়েন্ট বেড়ে যায় এবং নিফটিও শক্ত অবস্থানে পৌঁছে যায়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি দ্রুত শেষ হতে পারে এই আশায় বিনিয়োগকারীরা আবারও শেয়ার বাজারে টাকা ঢালতে শুরু করেছেন।
শুধু ভারতই নয়, এশিয়ার অন্যান্য বাজারেও একই চিত্র দেখা গেছে। জাপানের নিক্কেই, হংকংয়ের হ্যাংসেং এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি- সবকটি বাজারেই সূচক বাড়তে শুরু করেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও কমতে শুরু করেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আরও স্বস্তি এনে দিয়েছে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি বলেও সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও পশ্চিম এশিয়ার ভৌগোলিক এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও অস্থির। ফলে আগামী কয়েক দিন বিশ্ব বাজারে ওঠানামা চলতেই পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ট্রাম্পের “যুদ্ধ দ্রুত শেষ হতে পারে” মন্তব্য আপাতত বিশ্ব অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তির বাতাস বইয়ে দিয়েছে। সেই প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক শেয়ার বাজার থেকে ভারতের সেনসেক্স-নিফটি পর্যন্ত। এখন সবার নজর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ও আমেরিকা-ইজরায়েলের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।

