পশ্চিম এশিয়ায় চলা যুদ্ধের জন্য বিশ্বে জ্বালানি সংকট। এশিয়া থেকে ইউরোপ, সব মহাদেশের দেশই এই সমস্যায় ভুগছে। ভারত দক্ষতার সঙ্গে জ্বালানি সংকটের মোকাবিলা করলেও বাংলাদেশ ও পাকিস্তান ধুঁকছে। সেই ছবিই ধরা পড়ল বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। সেখানে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যানবাহন চালকরা। একটি পেট্রল পাম্পে দেখা গিয়েছে তেল নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছে ১ হাজার ১১টি যানবাহন। (Bangladesh Oil Crisis)
বাংলাদেশের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে দাবি, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পরীবাগের মেঘনা মডেল ফিলিং স্টেশনে ৫১৮টি মোটরসাইকেল ও ৪৯৩টি প্রাইভেট কার অপেক্ষায় ছিল। একই অবস্থা মৎস্য ভবন এলাকার রমনা ফিলিং স্টেশনেও। সেখানে সকাল ১০টার দিকে ৪২২টি মোটরসাইকেল ও ৩৫৮টি প্রাইভেট কার লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল। (Bangladesh Oil Crisis)
পরীবাগের মেঘনা মডেল ফিলিং স্টেশনে প্রাইভেট কার চালক আখতার হোসেন জানান, তেল না নিলে তাঁর চাকরি থাকবে না। যত কষ্টই হোক, তেল নিতে হবে। তিনি বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন, কিন্তু শুক্রবার বেলা ১১টাতেও তেল পাননি। তাঁর সামনে তখনো আরও তিনটি গাড়ি ছিল।
মোটরসাইকেল চালক সাইফুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় লাইনে দাঁড়িয়েছেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায়ও তেল মেলেনি। পাম্প থেকে জানানো হয়েছে, দুপুরের পর হয়তো পাবেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “চাকরি করি, শুক্রবার ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর কথা, কিন্তু তেলের জন্য পুরো রাত ও দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই ভোগান্তি কবে শেষ হবে জানি না।”আরেক চালক আবদুর রহিমও বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। শুক্রবার বেলা ১১টার পরও তেল পাননি। চালকদের অভিযোগ, সরকার ও মন্ত্রীরা বলছেন তেলের কোনও সংকট নেই, আরও তেল আসছে। কিন্তু ফিলিং স্টেশনের ছবিটা একদমই আলাদা। লাইন কমার বদলে দিন দিন আরও লম্বা হচ্ছে বলে দেখা যাচ্ছে। (Bangladesh Oil Crisis)
অপেক্ষার এই দীর্ঘ সময়ে অনেকে মোটরসাইকেলের উপর শুয়ে ঘুমিয়ে নিচ্ছেন, কেউবা চা খেয়ে সময় কাটাচ্ছেন। তেলের অভাবে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও কর্মক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। (Bangladesh Oil Crisis)

