পাকিস্তানের বিচারব্যবস্থাকে নাড়িয়ে দেওয়া এক চাঞ্চল্যকর কেলেঙ্কারি সামনে এসেছে (Pakistan Fake Judge)। ইসলামাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি তারেক মাহমুদ জাহাঙ্গিরির আইনের ডিগ্রি ভুয়ো বলে প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে। গত পাঁচ বছর ধরে তিনি বিচারপতির দায়িত্ব সামলালেও আদালতের ১১৬ পাতার রায়ে স্পষ্ট বলা হয়েছে, তাঁর আইন ডিগ্রি শুরু থেকেই অবৈধ ছিল। ফলে বিচারপতি হিসেবে তাঁর নিয়োগও আইনত অকার্যকর বলে গণ্য হয়েছে।
ইংরেজি দৈনিক ‘ডন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি যাচাই করে আদালত জানতে পারে, জাহাঙ্গিরি ১৯৮৮ সালে ভুয়ো এনরোলমেন্ট নম্বর ব্যবহার করে আইনের পরীক্ষায় বসেন এবং নকল করতে গিয়ে ধরা পড়েন। এরপর ১৯৮৯ সালে তাঁকে তিন বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু শাস্তি মেনে না নিয়ে তিনি নাম বদলে এবং অন্য ছাত্রের এনরোলমেন্ট নম্বর ব্যবহার করে আবার পরীক্ষায় বসেন বলে অভিযোগ।
সরকারি ইসলামিয়া ল কলেজের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, জাহাঙ্গিরি কখনও ওই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হননি। আদালত তাঁকে একাধিকবার আসল নথি জমা দেওয়ার সুযোগ দিলেও তিনি তা দিতে ব্যর্থ হন। বরং শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার আবেদনসহ নানা আইনি কৌশল নেওয়ার চেষ্টা করেন, যা আদালত ‘সময় নষ্টের কৌশল’ বলে মন্তব্য করেছে।
তিনিই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর জীবন বাঁচিয়েছেন, বড় দাবি Donald Trump-এর
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তিনি ইসলামাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি হন এবং গত বছরের সেপ্টেম্বরেই তাঁকে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছিল। অবশেষে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিকূল অনুমান টেনে অপসারণের নির্দেশ দেয়।
এই ঘটনায় পাকিস্তানের বিচারপতি নিয়োগ ও যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু একজন ব্যক্তির প্রতারণা নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারির বড় ব্যর্থতারও উদাহরণ। এখন প্রশ্ন উঠছে— কীভাবে ভুয়ো ডিগ্রি নিয়ে এত বছর বিচারপতির পদে থাকা সম্ভব হলো এবং দায় কার?












