Site icon Hindustan News Point

India Bangladesh Relation: ভারতের জন্য বরাদ্দ জমিতে অস্ত্র কারখানা, নেপথ্যে পাকিস্তান-চিন?

India Bangladesh Relation

ভারতের জন্য বরাদ্দ জমিতে অন্য কাজ করার সিদ্ধান্ত নিল বাংলাদেশের মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার (India Bangladesh Relation)। সোমবার বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (BEZA)-র বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে প্রস্তাবিত ‘ইন্ডিয়ান ইকোনমিক জ়োন’ বাতিল করে সেখানে গড়া হবে একটি ‘ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল জ়োন’। শেখ হাসিনা জমানায় এই জমিটাকে ভারতের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তের ফলে দিল্লি ও ঢাকার সম্পর্কের দূরত্ব আরও বাড়ল বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (BIDA) কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন জানান, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির উদ্যোগে ওই অঞ্চলে সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ তৈরির কারখানা গড়া হবে। তাঁর কথায়, “বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নিজস্ব প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষমতা অত্যন্ত জরুরি। সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলো দেখিয়েছে, সংকটটা উচ্চ প্রযুক্তির অস্ত্রে নয়, বরং গুলি ও মৌলিক সরঞ্জামের ঘাটতিতে।”

এই প্রকল্পের জন্য যে ৩২৩.৭৫ হেক্টর জমি ব্যবহার হবে, তা আগে ভারতের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছিল। পরে সেই প্রকল্প বাতিল হওয়ায় জমি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত ছিল। এখন সেই জমিতেই সামরিক শিল্প গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। আশিক স্পষ্ট করেন, বাংলাদেশ উচ্চ প্রযুক্তির অস্ত্র নয়, মূলত সেনাবাহিনীর প্রয়োজন অনুযায়ী গুলি, যন্ত্রাংশ ও ট্যাঙ্কের উপকরণ তৈরি করবে। এটি রফতানির চেয়েও বেশি জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্ন বলেই তাঁর মন্তব্য।

মিডিয়া ব্যবসায় ক্ষমতা বাড়ল আদানি গোষ্ঠীর, কিনল সংবাদসংস্থা IANS-কে

তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে নয়াদিল্লিতে উদ্বেগ বাড়ছে। কূটনৈতিক মহলের আশঙ্কা, এই ‘ডিফেন্স ইকোনমিক জ়োন’-এ বিনিয়োগ করতে পারে চিন বা পাকিস্তানের মতো দেশ, যাদের সঙ্গে ঢাকার সম্প্রতি ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে। ভারতের জন্য বরাদ্দ জমিতে যদি ভবিষ্যতে চিন-পাকিস্তান ঘনিষ্ঠ সামরিক কারখানা গড়ে ওঠে, তা আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় বার্তা বহন করবে।

এ দিনের বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ২৬৩ হেক্টরের একটি ফ্রি ট্রেড জ়োন গড়ার। সেখানে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা পণ্য তৈরি, মজুত ও পুনরায় রফতানি করতে পারবেন। ইউনূস সরকারের দাবি, এই প্রকল্পগুলি দক্ষিণ বাংলাদেশের কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে।

তবে আদানি বিদ্যুৎ, তিস্তা জলবণ্টন ইস্যুর পর মিরসরাই নিয়ে এই সিদ্ধান্ত ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে নতুন শৈত্যপ্রবাহের ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Exit mobile version