Site icon Hindustan News Point

India US Relation: ভারতকে এই বিশেষ দেশ থেকে তেল কেনার প্রস্তাব আমেরিকার, রাজি হলেই ট্যারিফে ছাড়

India US Relation

রাশিয়ার থেকে ভারতের তেল কেনা নিয়ে কোনও পক্ষই খুশি হতে পারেনি। বিশেষ করে ইউরোপ। আমেরিকা সরাসরি কিছু না বললেও তারা ক্ষুব্ধ ছিল (India US Relation)। তেল বিক্রির টাকা থেকে রাশিয়া ইউক্রেনের উপর হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ ছিল। এ বার আমেরিকা সরাসরি ভারতকে বলে দিল কোন দেশ থেকে তেল কিনতে হবে। যার ফলে তেল কেনাকে কেন্দ্র করে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক টানাপোড়েন নতুন মোড় নিল।

রাশিয়া থেকে তেল আমদানির কারণে ভারতীয় পণ্যের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিল ওয়াশিংটন। পরে সেই শুল্ক আরও ২৫ শতাংশ বাড়ানো হলে মোট ট্যারিফ দাঁড়ায় ৫০ শতাংশে। এই পরিস্থিতিতে ভারতকে নতুন প্রস্তাব দিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়ার বদলে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কেনার প্রস্তাব দিলেন তিনি।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশ, ট্রাম্প প্রশাসন নয়াদিল্লিকে ইঙ্গিত দিয়েছে, চাইলে ভারত আবার ভেনেজুয়েলা থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি শুরু করতে পারে। মূল লক্ষ্য, রুশ তেল রপ্তানি থেকে মস্কোর আয় কমানো, যা ইউক্রেন যুদ্ধের খরচ জোগাচ্ছে বলে আমেরিকার দাবি। এই প্রস্তাব কার্যকর হলে ভারতের উপর আরোপিত অতিরিক্ত ট্যারিফ কমার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা।

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্রয়োজন নেই— এমনটাই কি আশা মার্কিন প্রেসিডেন্টের?

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চলতি বছরের মার্চে ভেনেজুয়েলার তেল কেনার কারণেই ভারত-সহ একাধিক দেশের উপর শুল্ক চাপানো হয়েছিল। কিন্তু জানুয়ারির শুরুতে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হস্তক্ষেপের পর পরিস্থিতি বদলায়। বিশ্বের বৃহত্তম তেল ভাণ্ডারের একটি অংশ কার্যত আমেরিকার প্রভাব বলয়ে চলে আসায়, এখন সেই তেলই বিকল্প হিসেবে তুলে ধরছে ওয়াশিংটন।

অন্যদিকে ভারত ধীরে ধীরে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমাচ্ছে। সূত্রের খবর, জানুয়ারিতে যেখানে দৈনিক প্রায় ১২ লক্ষ ব্যারেল রুশ তেল আমদানি হচ্ছিল, তা ফেব্রুয়ারিতে কমে প্রায় ১০ লক্ষ এবং মার্চে ৮ লক্ষ ব্যারেলে নামতে পারে। ভবিষ্যতে এই পরিমাণ আরও কমে ৫–৬ লক্ষ ব্যারেলে পৌঁছনোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। যদিও ভেনেজুয়েলার তেল আমদানি নিয়ে এখনও সরকারি ভাবে কোনও মন্তব্য করেনি নয়াদিল্লি, তবে আমেরিকার সঙ্গে বৃহত্তর বাণিজ্য চুক্তির পথে এটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক চাল হিসেবেই দেখা হচ্ছে।


Exit mobile version