Site icon Hindustan News Point

হরমুজে নজিরবিহীন উদ্ধার অভিযান, নেপথ্যে ভারতীয় বংশোদ্ভূত

Vibhav Altekar

ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন অ্যাপাচে হেলিকপ্টারের দুই পাইলটকে উদ্ধার করতে সম্প্রতি যে অত্যাধুনিক ড্রোন বোট ব্যবহার করেছে মার্কিন নৌবাহিনী, তার পেছনে রয়েছে এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রযুক্তিবিদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান। এই প্রযুক্তিবিদের নাম বিভব অলতেকর (Vibhav Altekar) । তিনি এমন একটি স্বয়ংক্রিয় নৌযান তৈরির সঙ্গে যুক্ত যা ভবিষ্যতের সামরিক অভিযানে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

মার্কিন নৌবাহিনী সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি বিশেষ উদ্ধার অভিযানে ‘করসেয়ার’ (Corsair) নামের একটি ড্রোন বোট ব্যবহার করে। ইরানি বাহিনীর গুলিতে ক্ষতিগ্রস্ত একটি অ্যাপাচে হেলিকপ্টারের পাইলট ও কো-পাইলটকে সমুদ্র থেকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয় এই স্বয়ংক্রিয় নৌযানের মাধ্যমে। এটি ছিল মার্কিন সেনাবাহিনীর ইতিহাসে প্রথম এমন অভিযান, যেখানে মানবচালিত জাহাজের পরিবর্তে দূরনিয়ন্ত্রিত স্বয়ংক্রিয় সারফেস ভেসেল ব্যবহার করা হয়েছে।

করসেয়ার একটি ২৪ ফুট দীর্ঘ ড্রোন বোট, যা ডিজেলচালিত এবং ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩৫ নট গতিতে চলতে সক্ষম। একবার জ্বালানি ভরলে এটি ১,০০০ নটিক্যাল মাইলেরও বেশি পথ অতিক্রম করতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তিনির্ভর এই নৌযান প্রায় ১,০০০ পাউন্ড পর্যন্ত মালপত্র বহন করতে পারে।

বর্তমানে এই ড্রোন বোট মার্কিন নৌবাহিনীর টাস্ক ফোর্স ৫৯-এর অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পেন্টাগনের ভবিষ্যৎ যুদ্ধকৌশলে মানববিহীন ও AI-নির্ভর যানবাহনের গুরুত্ব বাড়ানোর পরিকল্পনার অন্যতম অংশ এই প্রকল্প।

আরও পড়ুন: শ্রম ও পরিবহণে বড় দায়িত্ব, ‘শ্রমিক স্বার্থেই লড়াই করব’; মন্ত্রীত্ব পেয়ে বার্তা অর্জুন সিংয়ের

কে এই (Vibhav Altekar) বিভব আলতেকর?


ভারতীয় বংশোদ্ভূত (Vibhav Altekar) বিভব আলতেকর বর্তমানে সারোনিক টেকনোলজিসের (Saronic Technologies) চিফ টেকনোলজি অফিসার (CTO)। তিনি ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে তিনি একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত।

সারোনিকের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, সফটওয়্যার আর্কিটেকচার এবং স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম তৈরির নেতৃত্ব দিচ্ছেন আলতেকর। তাঁর নেতৃত্বে বিভিন্ন প্রকৌশলী দল মেশিন লার্নিং, নেভিগেশন, পারসেপশন প্রযুক্তি এবং কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সিস্টেম নিয়ে কাজ করছে।

(Vibhav Altekar) এর আগে তিনি মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সংস্থা অ্যান্ডুরিল (Anduril)-এর প্রাথমিক পর্যায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকৌশলী ছিলেন। সেখানে তিনি একাধিক প্রতিরক্ষা প্রকল্পে নেতৃত্ব দেন, যার মধ্যে রয়্যাল অস্ট্রেলিয়ান নেভির ‘ঘোস্ট শার্ক’ ড্রোন সাবমেরিন প্রকল্পও ছিল।

সারোনিক টেকনোলজিস

টেক্সাসের অস্টিন-ভিত্তিক সারোনিক টেকনোলজিস ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠিত হয়। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক নেভি সিল সদস্য ডিনো মাভরুকাস, (Vibhav Altekar) বিভব আলতেকর, ডগ ল্যামবার্ট এবং রব লেহম্যান।

স্বল্প সময়ের মধ্যেই সংস্থাটি মার্কিন প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। লিঙ্কডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য স্বয়ংক্রিয় সারফেস ভেসেল তৈরিতে প্রায় ৩৯২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের উৎপাদন চুক্তি রয়েছে তাদের।

বিশেষজ্ঞদের মতে, করসেয়ারের মতো AI-চালিত ড্রোন বোট ভবিষ্যতে উদ্ধার অভিযান, নজরদারি এবং সামরিক অপারেশনে বড় ভূমিকা পালন করবে। আর সেই প্রযুক্তিগত বিপ্লবের অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রযুক্তিবিদ বিভব আলতেকর।

আরও পড়ুন: বিশ্বকাপে মুখোমুখি হচ্ছে মেসি-রোনাল্দো? দেখুন কোন অঙ্কে মুখোমুখি হতে পারেন দুই তারকা


Exit mobile version