[ছবি:এক্স]
ভারতের সিন্ধু নদীর জলবণ্টন চুক্তি (Indus Waters Treaty) স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ফের তীব্র (Indus River Conflict) উত্তেজনা তৈরি হয়েছে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে। এবার শুধু পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃত্বই নয়, সে দেশের সেনাবাহিনীও জানিয়ে দিল, জল নিয়ে নিজেদের “ন্যায্য অধিকার” রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর মধ্যেই ভারতকে সরাসরি যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির (PPP) চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি। ফলে দীর্ঘদিনের জলচুক্তি এখন কার্যত কূটনৈতিক ও কৌশলগত সংঘাতের নতুন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
গত বছরের পহেলগাঁও জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিল ভারত। তারই অংশ হিসেবে ১৯৬০ সালের সিন্ধু জল চুক্তিকে ‘স্থগিত’ (abeyance) রাখার সিদ্ধান্ত নেয় নয়াদিল্লি। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে জল নিয়ে টানাপোড়েন ক্রমশ বাড়ছে।
(Indus River Conflict) পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ২৭৬তম কর্পস কমান্ডার্স কনফারেন্সে দেশের “ন্যায্য জলপ্রাপ্যতা” নিশ্চিত করতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির (NSC) নির্দেশিকার প্রতি পুনরায় সমর্থন জানানো হয়।
ওই NSC বৈঠকেই পাকিস্তান ঘোষণা করেছিল, সিন্ধু নদীর জল বন্ধ বা অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার যে কোনও প্রচেষ্টাকে তারা “যুদ্ধ ঘোষণা” বা Act of War হিসেবে বিবেচনা করবে। (Indus River Conflict) বৈঠকে আফগান তালিবান-নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে পাকিস্তানে জঙ্গি হামলা নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি “অপারেশন গাজাব-উল-হক”-এর আওতায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাওয়ার কথা জানানো হয়েছে। কাশ্মীর ইস্যুতেও পাকিস্তানের রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও নৈতিক সমর্থনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
জাকার্তায় বিশেষ অভ্যর্থনা, অ্যাক্ট ইস্ট নীতিতে নতুন গতি আনতে তিন দেশের সফর মোদির
(Indus River Conflict) এদিকে একটি জনসভায় বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি অভিযোগ করেন, ভারত সিন্ধু নদীর জলকে “অস্ত্র” হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। তাঁর কথায়, “সিন্ধু জল চুক্তি নিয়ে কোনও আপস হবে না। ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হলেও আমরা সব ফ্রন্টে লড়াই করব।”
(Indus River Conflict) ভারত অবশ্য নিজের অবস্থানে অনড়। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট জানিয়েছেন, সীমান্ত-পার সন্ত্রাসবাদে পাকিস্তানের সমর্থন পুরোপুরি ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিতই থাকবে। নয়াদিল্লির মতে, বাস্তব পরিস্থিতি উপেক্ষা করে কোনও আন্তর্জাতিক চুক্তি কার্যকর থাকতে পারে না।
বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু জল চুক্তি অনুযায়ী রাভি, বেয়াস ও শতদ্রু নদীর জল ভারতের নিয়ন্ত্রণে এবং সিন্ধু, ঝিলম ও চেনাবের জল ব্যবহারের অধিকার পাকিস্তানের। এতদিন বর্ষাকালে বন্যা সংক্রান্ত তথ্যও ভারত পাকিস্তানকে জানাত। তবে চুক্তি স্থগিত থাকায় সেই বাধ্যবাধকতাও আর নেই। একই সঙ্গে সাওয়ালকোট, রাতলে, বুরসার, পাকাল দুল, কওয়ার, কিরু ও কির্থাই-১ ও ২-সহ একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ভারত।
পাকিস্তানের কৃষির প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশই সিন্ধু নদী ব্যবস্থার জলের উপর নির্ভরশীল। অথচ দেশটির জল সংরক্ষণের সক্ষমতা মাত্র প্রায় এক মাসের প্রবাহের সমান এবং টারবেলা ও মাংলা জলাধারও প্রায় মৃত সঞ্চয়স্তরের কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে দাবি। এই কারণেই জলচুক্তি এখন পাকিস্তানের কাছে শুধু পরিবেশ বা কৃষির বিষয় নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত অস্তিত্বের প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।

