ভারত মহাসাগরের নীল জলরাশিতে যুদ্ধের দামামা আরও জোরালো হয়ে উঠল। তেহরান থেকে প্রায় চার হাজার কিলোমিটার দূরে আমেরিকা ও ব্রিটেনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়া লক্ষ্য করে ধেয়ে এল ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল। পেন্টাগন সূত্রে খবর,অন্তত দুটি মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়েগো গার্সিয়ার দিকে ছুড়েছে ইরান,যার একটি মাঝপথেই ভেঙে পড়ে এবং অন্যটিকে আমেরিকার যুদ্ধজাহাজ থেকে ছোড়া ইন্টারসেপ্টার দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র থেকে কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে থাকা এই দ্বীপে হামলার চেষ্টা আন্তর্জাতিক সামরিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। (Diego Garcia)
দিয়েগো গার্সিয়ার মতো দুর্ভেদ্য ও সুরক্ষিত ঘাঁটিতে আঘাত হানার চেষ্টা করে ইরান আসলে নিজের বাড়তে থাকা সামরিক শক্তিরই জানান দিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এতদিন ধারণা ছিল যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের দৌড় বড়জোর দুই থেকে আড়াই হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত। কিন্তু তেহরান থেকে চার হাজার কিলোমিটার দূরের দ্বীপে আক্রমণের এই দুঃসাহস প্রমাণ করছে যে, তাদের হাতে থাকা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের আধুনিকীকরণ ও পরীক্ষা সফল হয়েছে। এই ঘটনা পশ্চিমী দুনিয়ার প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে, কারণ এর ফলে ভারত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন ইরানের নিশানায় চলে এল। (Diego Garcia)
সম্প্রতি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ঘোষণা করেছিলেন, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ রক্ষা করতে দিয়েগো গার্সিয়া-সহ ব্রিটেনের অন্যান্য ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের ওপর ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হামলা চালাতে পারবে আমেরিকা। লন্ডনের এই বার্তা পাওয়ার পরেই তেহরান ক্ষোভে ফেটে পড়ে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ব্রিটিশ সরকারের এই পদক্ষেপ যুদ্ধের পরিধি বাড়িয়ে দেবে। শনিবারের এই ক্ষেপণাস্ত্র হানাকে সেই হুঁশিয়ারিরই সরাসরি প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিকবিদেরা। (Diego Garcia)
দিয়েগো গার্সিয়া মূলত ব্রিটিশ অধিকৃত ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অংশ হলেও গত কয়েক দশক ধরে এটি আমেরিকার অন্যতম প্রধান বিমান ও নৌঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধের সময় এই ঘাঁটি থেকেই আমেরিকার বি-৫২ বোমারু বিমান উড়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন যুদ্ধের খরচ কমানোর ইঙ্গিত দিচ্ছেন, ঠিক তখনই ভারত মহাসাগরের এই নজিরবিহীন হামলা ওয়াশিংটনকে আরও কঠোর অবস্থানে ঠেলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তেহরানের এই পদক্ষেপের পর আমেরিকা ও ব্রিটেন যৌথভাবে কোনো বড় সামরিক পদক্ষেপ নেয় কি না, এখন সেটাই দেখার। (Diego Garcia)

