ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিতে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Iran War Harmuz )। হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে তিনি ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়েছেন। বলেছেন, এই সময়ের মধ্যে হরমুজে পণ্যবাহী জাহাজের যাতায়াত স্বাভাবিক না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলি নিশ্চিহ্ন করে দেবে মার্কিন বাহিনী। আজই শেষ হচ্ছে ট্রাম্পের দেওয়া এই ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা। সময়সীমার ফুরনোর আগেই ট্রাম্পের হুমকির পাল্টা জবাব দিল ইরান। আমেরিকা তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলির উপর হামলা চালালে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিল ইরান।
এক বিবৃতিতে ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছেন, “ধ্বংসপ্রাপ্ত ইরানি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পুনর্নির্মাণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং তা খোলা হবে না।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সতর্কবার্তার পর আইআরজিসি-র এই বিবৃতিটি আসে। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে না দেয়, তবে আমেরিকা ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্রেগুলির উপর আঘাত হানবে। ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা উপসাগরে মার্কিন-সংশ্লিষ্ট জ্বালানি, প্রযুক্তিকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।
তেল উত্তোলনের ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ, যা গোটা বিশ্বের তেল ও গ্যাস সরবরাহের একটি বড় অংশ হিসাবে পরিবাহিত হয়। ইরান ২৮ ফেব্রুয়ারি এই গুরুত্বপূর্ণ পথ বন্ধ করে দেয়। যার জেরে সারা বিশ্বে জ্বালানি ও তেলের অভাব দেখা গিয়েছে। যদিও কিছু কিছু দেশের জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালী খুলেছে।
ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারির এই হুঁশিয়ারির পর প্রমাদ গুনছে উপসাগরীয় দেশগুলি। ওই অঞ্চলে বিদ্যুৎ এবং জল পরিশোধন কেন্দ্রের উপর বহু মানুষ নির্ভরশীল। সেই পরিষেবা ব্যাহত হলে মুখ থুবড়ে পড়তে পারে জনজীবন। তা উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রে আমেরিকা হামলা চালালে ইরানের ক্ষতি হবে, এ কথা সত্য। তবে ইরানের (Iran War Harmuz ) উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলি তার চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। মরু অঞ্চলকে বাসযোগ্য করে তুলেছে বিদ্যুৎই। বিদ্যুতের মাধ্যমেই পানীয় জল পান ওই সমস্ত দেশের মানুষ। সমুদ্রের জলকে লবণমুক্ত করা হয় জল পরিশোধন কেন্দ্রে। বাহরিন এবং কাতারে পানীয় জলের ১০০ শতাংশই এই পদ্ধতিতে আসে। এ ছাড়া, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ৮০ শতাংশ পানীয় জলের প্রয়োজন এবং সৌদি আরবের ৫০ শতাংশ জলের প্রয়োজন মেটে এই পদ্ধতিতেই। জল পরিশোধন কেন্দ্রগুলি বিদ্যুৎ ছাড়া চলবে না।

