Site icon Hindustan News Point

Donald Trump: দুনিয়াকে ট্যারিফের হুমকি, এদিকে নিজের ঘরেই ‘ঝড়’ ! কোন দিক সামলাবেন ট্রাম্প?

Donald Trump 1

একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) যখন গোটা দুনিয়ার উপর শুল্ক চাপিয়ে অর্থনীতিকে কাঁপাতে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময়েই আমেরিকার মানুষ কাঁপছেন আরেক রকম ভয়ে। বরফ আর তুষার ঝড়ের ভয়। ফলাফল? দেশজুড়ে খালি সুপারমার্কেটের তাক, বাতিল হাজার হাজার ফ্লাইট আর ঘরে ঘরে ‘যা পাও, তুলে নাও’ রব।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে শুক্রবার রাত থেকেই আছড়ে পড়ার পূর্বাভাস ছিল শক্তিশালী ঝড়ের। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই ঝড়ের সঙ্গে থাকবে ভারী তুষারপাত এবং হাড়কাঁপানো ঠান্ডা হাওয়া। ঝড় আসার আগেই আতঙ্কে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে মানুষরা। বহু শহরে সুপারমার্কেটের তাক প্রায় ফাঁকা। উধাও খাদ্য সামগ্রী থেকে নিত্যদিনের ব্যবহার্য জিনিসপত্র।

এই ঝড়ের প্রভাব পড়তে পারে অন্তত ১৬ কোটি মানুষের জীবনে। বিদ্যুৎ পরিষেবা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যেই ২৭০০-র বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বিশেষ করে টেক্সাস ও আশপাশের এলাকাগুলিতে বাতিলের সংখ্যাটা বেশি। প্রশাসনের দাবি, গত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বিদ্যুৎ গ্রিড এবার অনেক বেশি প্রস্তুত, যদিও বিশেষজ্ঞরা বরফ জমে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঝুঁকি একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হকল নাগরিকদের অপ্রয়োজনে বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, কয়েক মিনিটের মধ্যেই ত্বকে ফ্রস্টবাইট হতে পারে। বহু জায়গায় স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে, বাতিল করা হয়েছে খেলাধুলা ও সামাজিক অনুষ্ঠান। উত্তর ও মধ্য আমেরিকার কিছু অংশে তাপমাত্রা নেমে যেতে পারে মাইনাস ৫০ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত। ঝড় মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই ১৬টি রাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে, খোলা হয়েছে উষ্ণ আশ্রয়কেন্দ্র।

বিজ্ঞানীদের মতে, এই তীব্র শীতের অন্যতম কারণ পোলার ভর্টেক্সের বিস্তার, যার ফলে আর্কটিক অঞ্চলের হিমশীতল বাতাস দক্ষিণে নেমে আসছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়েও আলোচনা চলছে, যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) বরাবরের মতোই এই তত্ত্বকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাঁর প্রশ্ন এত ঠান্ডা হলে গ্লোবাল ওয়ার্মিং কোথায়?

সব মিলিয়ে, বিশ্ব রাজনীতিতে যখন ট্যারিফ আর কূটনৈতিক উত্তাপ ছড়াতে মন দিয়েছেন ট্রাম্প, তখন আমেরিকার সাধারণ মানুষের শিরে সংক্রান্তি, এই তুষারঝড়ে বেঁচে থাকাই এখন সবচেয়ে বড় লড়াই। এমন অবস্থায় কী করবেন ট্রাম্প? এখনও কি ভেনেজুয়েলা আর গ্রিনল্যান্ডেই মজে থাকবেন তিনি, নাকি নিজের ঘরও সামলাবেন?

Exit mobile version