বর্তমানে ভারতের বহু মন্দিরেই দেখা যাচ্ছে প্রযুক্তির ছোঁয়া (AI in Temple)। ভক্তদের জন্য চালু হয়েছে অটোমেটিক চরণামৃত ডিসপেন্সিং মেশিন— যেখানে নিচে হাত রাখলেই মিলছে প্রসাদ। কোভিড মহামারীর সময় সংক্রমণ এড়াতে ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যেই এই ব্যবস্থার সূচনা হয়েছিল। তখনই প্রশ্ন উঠেছিল, ভবিষ্যতে কি ধর্মীয় আচারেও মানুষের ভূমিকা কমে যাবে? প্রযুক্তির অগ্রগতিতে সেই সম্ভাবনাই যেন ধীরে ধীরে বাস্তব হচ্ছে (AI Robot Monk)।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ চাকরি হারানোর আশঙ্কা। বিভিন্ন পেশায় AI-এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা চললেও ধর্মীয় ক্ষেত্রও যে এর বাইরে থাকবে না, তা অনেকেই ভাবেননি। কিন্তু জাপান সেই ধারণাকেই বদলে দিল। সেখানে তৈরি হয়েছে AI-চালিত রোবট সন্ন্যাসী— ‘বুদ্ধারয়েড’।
কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইনস্টিটিউট ফর দ্য ফিউচার অফ হিউম্যান সোসাইটি’-র অধ্যাপক সেইজি কুমাগাই এই বিশেষ রোবট তৈরি করেছেন। এর আগে তিনি উন্নত ভাষা মডেলের সাহায্যে ‘বুদ্ধাবটপ্লাস’ নামে একটি ধর্মীয় চ্যাটবট তৈরি করেছিলেন। পরে সেই প্রযুক্তিকেই সংযুক্ত করা হয়েছে মানবসদৃশ একটি হিউম্যানয়েড রোবটে। বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ ও আধ্যাত্মিক দর্শনের বিশাল তথ্যভান্ডার দিয়ে প্রশিক্ষিত হওয়ায় এই রোবট মানুষের মতোই ধর্মীয় উপদেশ দিতে সক্ষম বলে দাবি নির্মাতার।
পাকিস্তান মানেই বিতর্ক, ৫ বছর বিচারপতির পদে— জানা গেল ডিগ্রিটাই ভুয়ো
‘বুদ্ধারয়েড’-এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, এটি মানুষের মানসিক সমস্যার কথাও মনোযোগ দিয়ে শুনতে পারে এবং শান্ত কণ্ঠে পরামর্শ দেয়। দেখতে প্রায় মানুষের মতো এই রোবট হাঁটতে পারে, প্রার্থনার ভঙ্গি নিতে পারে এবং ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানও পরিচালনা করতে সক্ষম।
জাপানে ক্রমশ বৌদ্ধ সন্ন্যাসীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে ধর্মীয় পরামর্শদাতার অভাব তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা ছিল। সেই শূন্যস্থান পূরণ করতেই এই উদ্যোগ। তবে প্রযুক্তিনির্ভর ধর্মচর্চা ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে পুরোহিত বা ধর্মীয় কর্মীদের ভূমিকা কতটা বদলে দেবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।

