ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কিয়ার স্টারমার। সোমবার নিজের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে তিনি জানান, লেবার পার্টির নেতা হিসেবেও সরে দাঁড়াচ্ছেন তিনি। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের মাধ্যমে কনজারভেটিভদের ১৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল লেবার। কিন্তু মাত্র দু’বছরের মধ্যেই দলীয় সমর্থন ও রাজনৈতিক চাপে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগের পথ বেছে নিলেন স্টারমার। (Keir Starmer Quits As PM)
সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে ৬৩ বছর বয়সি স্টারমার জানান, তিনি দলের মতামত শুনেছেন এবং তা “সৌজন্যের সঙ্গে গ্রহণ” করছেন। যদিও এর আগে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে তাঁকে সরানোর যে কোনও প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে লড়াই করবেন। তাঁর এই পদত্যাগের ফলে গত এক দশকে ব্রিটেনে পদ ছাড়া ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হলেন তিনি। (Keir Starmer Quits As PM)
১৯৬৩ সালে জন্মগ্রহণকারী কিয়ার স্টারমারের বাবা ছিলেন একজন টুলমেকার এবং মা ছিলেন নার্স। লেবার পার্টির প্রথম নেতা কিয়ার হার্ডির নাম অনুসারেই তাঁর নাম রাখা হয়েছিল। লন্ডনের উপকণ্ঠে সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে তিন ভাইবোনের সঙ্গে বড় হন তিনি। পরিবারের মধ্যে তিনিই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পান। লিডস বিশ্ববিদ্যালয় এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন নিয়ে পড়াশোনা করার পর আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন। (Keir Starmer Quits As PM)
পরবর্তীতে ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব সামলান। আইন ও বিচারব্যবস্থায় অবদানের জন্য তিনি নাইটহুড সম্মানও পান। রাজনীতিতে তুলনামূলকভাবে দেরিতে প্রবেশ করে ২০১৫ সালে প্রথমবার সাংসদ নির্বাচিত হন। মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে লেবার পার্টির নেতৃত্বের দায়িত্ব পান তিনি। (Keir Starmer Quits As PM)
জেরেমি করবিনের নেতৃত্বে ১৯৩৫ সালের পর সবচেয়ে খারাপ নির্বাচনী ফলের ধাক্কা সামলে দলকে রাজনৈতিক কেন্দ্রের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন স্টারমার। ব্রেক্সিট ইস্যু ও নীতিগত মতভেদের কারণে করবিনের সঙ্গে একাধিকবার সংঘাতে জড়ালেও পরে দলের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে ওঠেন তিনি। ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিপুল জয় এনে দিলেও পরবর্তী সময়ে একাধিক রাজনৈতিক ধাক্কা তাঁর জনপ্রিয়তায় প্রভাব ফেলে।
এদিকে, স্টারমার জানিয়েছেন তাঁর উত্তরসূরি বাছাইয়ের জন্য মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে ৯ জুলাই এবং চলবে ১৬ জুলাই পর্যন্ত। শাসক লেবার পার্টির সাংসদদের মধ্য থেকেই নতুন নেতা নির্বাচিত হবেন। বর্তমানে প্রাক্তন ম্যানচেস্টার মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছে। কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকলে দ্রুতই তাঁর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ খুলে যেতে পারে। আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে বলে জানিয়েছেন স্টারমার। (Keir Starmer Quits As PM)
আরও পড়ুন :- কাতারের গ্যাস রফতানি কেন্দ্রে বিস্ফোরণ, আহত ৫৪, নিখোঁজ ১৮

