অপারেশন সিঁদুরে খতম হয়েছিল জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান মাসুদ আজাহারের (Masood Azhar Brother) পরিবারের একাধিক সদস্য। এবার খতম জইশের অন্যতম শীর্ষ নেতা মাসুদের ভাই মহম্মদ তাহির আনোয়ার। এই জঙ্গির মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে পাকিস্তানের একাধিক সংবাদ মাধ্যম। যদিও তার মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট করা হয়নি।
তাহির আনোয়ারের মৃত্যু নিয়ে ইতিমধ্যেই রহস্য দানা বেঁধেছে পাকিস্তানে। কীভাবে বা কী কারণে তাহির মারা গিয়েছে,তা নিয়ে চলছে জল্পনা। পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুরে তার মৃত্যু হয়েছে। বাহাওয়ালপুর হল জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান ঘাঁটি বা সদর দফতর।
মহম্মদ তাহির আনোয়ার ছিলেন পাকিস্তানের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ-এর একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী সদস্য। জঙ্গি সংগঠনের প্রধান মাসুদের ১২ ভাইবোনের মধ্যে সেই ছিল সবার বড়। ৬২ বছরের তাহির আনোয়ার দীর্ঘ বছর ধরে জইশ-ই-মহম্মদের বিভিন্ন অপারেশনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিল। সংগঠনের নীতিনির্ধারণে তার বড় ভূমিকা ছিল বলে মনে করা হয়।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোমবার রাতে বাহাওয়ালপুরের জামিয়া মসজিদ উসমান ওয়ালিতে তার শেষকৃত্য হয়। তবে সে কি অসুস্থ ছিল, নাকি অন্য কোনও দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে-সে বিষয়ে জইশের পক্ষ থেকে কোনও স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। এই রহস্যময় নীরবতা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে।
ভারত বিরোধী কার্যকলাপে জইশ-ই-মহম্মদ বরাবরই কুখ্যাত। এই সংগঠনের হাত ধরেই ভারতে একাধিক বড় হামলা হয়েছে। ২০০১ ভারতীয় সংসদে হামলা। ২০১৬-পাঠানকোট এয়ারবেস এবং উরি সেনাঘাঁটিতে হামলা। ২০১৯ পুলওয়ামা হামলা। ওই হামলায় ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান শহীদ হন।
কয়েক বছরে পাকিস্তানের ভেতরে জইশের আস্তানাগুলোতে বেশ কয়েকবার বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে ভারত । বিশেষ করে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় বাহাওয়ালপুরে জইশের(Masood Azhar Brother) সদর দফতর গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
সংগঠনটি সম্প্রতি স্বীকার করেছে যে, ভারতের ওই অভিযানে মাসুদ আজহারের বোন, ভগ্নিপতি ও ভাগ্নে-সহ পরিবারের প্রায় ১০ জন সদস্য নিহত হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মাসুদ আজহারের ভাই তাহির আনোয়ারের মৃত্যুর খবর ।

