ইরানে আবার আগুন জ্বলছে। ২০০৯ বা ২০২২ সালেও বিক্ষোভ হয়েছিল, কিন্তু ২০২৬-এর এই আন্দোলন একদম অন্য ধাঁচের। আগে হিজাব বা ভোট নিয়ে লড়াই হলেও, এবারের লড়াইটা সরাসরি পেটের টানে। সরকার আগে গায়ের জোরে আন্দোলন থামিয়ে দিত, কিন্তু এবার মানুষের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। ফলে এখানে আর সরকারের গায়ের জোর কাজে লাগছে না। (Iran)
এবারের রাগের আসল কারণ হলো আকাশছোঁয়া দাম। গত এক বছরে খাবারের দাম ৭০ শতাংশ বেড়েছে। ডলারের বদলে ইরানের মুদ্রার (ইরানি রিয়াল) দাম এখন তলানিতে—১ ডলারে প্রায় ১৪-১৫ লক্ষ রিয়াল পাওয়া যাচ্ছে! মধ্যবিত্ত থেকে গরিব, সবার সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে। তাই এবার শুধু ছাত্ররা নয়, তেহরানের বড় বাজার থেকে শুরু করে বন্দর এলাকার ব্যবসায়ীরাও রাস্তায় নেমেছেন। (Iran)
আগের আন্দোলনগুলো মূলত বড় শহর বা শিক্ষিতদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এবারের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে পাড়ায় পাড়ায়, ছোট ছোট মফস্বল শহরেও। মানুষ এখন শুধু দাম কমানোর দাবি তুলছে না, তারা চাইছে বর্তমান শাসনের অবসান। অনেক জায়গায় তো সরকারি অফিসে আগুন পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। (Iran)
বিদেশের চাপও এবার ইরানের ওপর অনেক বেশি। একদিকে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা, অন্যদিকে ইজরায়েলের হুঁশিয়ারি—সব মিলিয়ে ইরান সরকার কোণঠাসা। বাংলাদেশ, নেপালের পর ভেনেজুয়েলায় যেভাবে সরকার পড়ে গেছে, সেটা দেখে ইরানের সাধারণ মানুষের মনেও এবার সাহস বেড়েছে। তারা ভাবছে, এবার হয়তো আসলেও দিন বদলাবে। (Iran)
সব মিলিয়ে এবারের পরিস্থিতি আগের মতো অত সহজ নয়। সাধারণ মানুষ এবার আর শুধু লাঠির ভয়ে ঘরে ঢুকে যাচ্ছে না। একদিকে রাষ্ট্রের কড়াকড়ি, আর অন্যদিকে সর্বস্ব হারানো মানুষের মরণপণ জেদ—এই দুইয়ের লড়াইয়ে ইরানের ভবিষ্যৎ এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার। (Iran)

