ইরানের রাজনীতিতে এবার বড়সড় পট পরিবর্তন। সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই এর মৃত্যুই পর তাঁর উত্তরাধিকার কে হবে এই নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। এবার সেই জল্পনার অবসান।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরে তাঁর ছেলে মোজতবা হোসেন খামেনেইকে দেশের নতুন Supreme Leader বা সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে ইরান সরকারের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত ঘোষণা করা হয়নি, তবুও আন্তর্জাতিক মহলে এই খবর প্রকাশ হতেই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলির রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের সংবিধান অনুসারে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা পরিষদের (Assembly of Experts) কর্তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই পরিষদই দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাকে বেছে নেয় এবং প্রয়োজন হলে তাঁকে অপসারণের ক্ষমতাও রাখে। সাম্প্রতিক অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেই এই নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।Mojtaba Hosen Khamenei
প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের পরেই আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবর সামনে আসে। তারপরই দ্রুত নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। বিভিন্ন বিশ্লেষকের মতে, এই সিদ্ধান্তে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps-এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
৫৬ বছর বয়সী মোজতবা হোসেন খামেনেই দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মহলে পরিচিত মুখ। যদিও তিনি কখনও সরাসরি উচ্চ সরকারি পদে আসিন হননি, তবুও পর্দার আড়ালে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেছেন বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তাঁর নির্বাচনের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই আন্তর্জাতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এবং চলমান আঞ্চলিক সংঘাতে এই নেতৃত্ব পরিবর্তন কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে কৌতূহল ও উদ্বেগ দুটোই বাড়ছে। এখন দেখার বিষয়, ইরান সরকার কবে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা করে এবং ভবিষ্যতে দেশ কোন পথে এগোয়।Mojtaba Hosen Khamenei

