Site icon Hindustan News Point

খামেনেইর শেষযাত্রা ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা, বাবার অন্ত্যেষ্টিতেও থাকছেন না মোজতবা

Ali Khamenei Funeral

[ছবি:এক্স]

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলি খামেনেইর শেষযাত্রাকে (Ali Khamenei Funeral) ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগামী ৪ জুলাই থেকে শুরু হতে চলা ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন না তাঁর পুত্র মোজতবা খামেনেই। নিরাপত্তাজনিত কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতে ইরানের প্রতিনিধিত্বকারী আয়াতোল্লা হাকিম এলাহি।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার সূচনার দিনই নিহত হন ইরানের দীর্ঘ ৩৬ বছরের শাসক আলি খামেনেই। তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই ইরান জুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। অবশেষে আগামী ৪ জুলাই তেহরানে শুরু হতে চলেছে তাঁর (Ali Khamenei Funeral) রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া, যা চলবে ৯ জুলাই পর্যন্ত। ওই দিনই উত্তর-পূর্ব ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদে তাঁর সমাধি সম্পন্ন হবে।

খামেনেইর পুত্র মোজতবা খামেনেই (Ali Khamenei Funeral) অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন তাঁর প্রতিনিধিরা। তাঁদের দাবি, ইজরায়েলের সম্ভাব্য হুমকি এবং নজরদারির আশঙ্কার কারণে মোজতবার প্রকাশ্যে উপস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ফলে এই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে তাঁকে দেখা যাবে না।

জানা গিয়েছে, ৭ জুলাই ইরানের পবিত্র শহর কুমেওতে বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন অংশে শোকসভা ও ধর্মীয় আচার পালনের পরিকল্পনা করেছে ইরান সরকার। প্রশাসনের অনুমান, ছয় দিনের এই (Ali Khamenei Funeral) শেষযাত্রায় লক্ষ লক্ষ মানুষ রাস্তায় নামবেন। ইতিমধ্যেই ইরানের বিভিন্ন শহরে খামেনেইর বিশাল পোস্টার ও হোর্ডিং টাঙানো হয়েছে।

(Ali Khamenei Funeral) এই রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ভারত থেকেও একটি প্রতিনিধিদল যোগ দেবে বলে সূত্রের খবর। বিহারের রাজ্যপাল জেনারেল সৈয়দ হাসনাইন, কেন্দ্রীয় বিদেশ প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গারিটা এবং কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী সালমান খুরশিদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন। যদিও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানালেও, তাঁর যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই জানা গিয়েছে।

এদিকে, গত মাসে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি থামেনি। হরমুজ প্রণালীতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে ইরানের পদক্ষেপ এবং তার জবাবে মার্কিন হামলার পর পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর ইরান কুয়েত ও বাহরাইনে আমেরিকান ঘাঁটিতে হামলা চালায়। যদিও সাম্প্রতিক কয়েক দিনে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মহলের পর্যবেক্ষণ।

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার দোহায় কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আমেরিকা ও ইরানি প্রতিনিধিদের পৃথক বৈঠকে ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। কাতারের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ১৪ দফা সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

আরও পড়ুন: ডার্বি দিয়ে শুরু, প্রকাশ্যে ডুরান্ড কাপের সূচি


Exit mobile version