নাইজেরিয়ায় গণহত্যা। জঙ্গিদের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে ২৯ জন। ঘটনাটি নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আদামাওয়া রাজ্যের গোম্বি লোকাল গভর্নমেন্ট এলাকার গুইয়াকু গ্রামে। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার রাতে। ঘটনায় অভিযোগের আঙুল ISIS-এর উপর। জঙ্গিরা মধ্যরাতে গ্রামে ঢুকে একাধিক ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে বাড়িতে বাড়িতে ঢুকে গুলিবর্ষণ শুরু করে। হামলা চলাকালীন তারা বেশ কয়েকটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। হামলাটি কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে। (Nigeria ISIS Attack)
গ্রামটি মূলত খ্রিস্টান অধ্যুষিত হলেও সেখানে কিছু মুসলিম পরিবারও বাস করে। ঘুমের মধ্যে থাকা নিরীহ গ্রামবাসীদের উপর এই অতর্কিত হামলায় ঘটনাস্থলেই ২৯ জনের মৃত্যু হয়। অনেকে গুরুতর আহত হয়েছেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেছে। এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। (Nigeria ISIS Attack)
আইএসআইএস জঙ্গিগোষ্ঠী টেলিগ্রামে একটি বার্তা দিয়ে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। নাইজেরিয়ায় বছরের পর বছর ধরে বোকো হারাম ও তার বিভিন্ন শাখা, বিশেষ করে আইএসআইএসের পশ্চিম আফ্রিকা শাখা আইএসডাব্লিউএপি এর তৎপরতা চলছে। এই অঞ্চলে গ্রামে গ্রামে এ ধরনের হামলা প্রায়শই ঘটে।
আদামাওয়া রাজ্যের গভর্নর আহমাদু উমারু ফিনত্রী সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে হামলার তীব্র নিন্দা করেন। তিনি বলেন, “এই ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমি এই কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।” তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
একই দিনে নাইজেরিয়ার কোগি রাজ্যের লোকোজা গ্রামে একটি অনাথ আশ্রমে আরেকটি হামলা চালিয়ে জঙ্গিরা ২৩ জন শিশুকে অপহরণ করে। পুলিশ পরে ১৫ জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় এবং বাকিদের খোঁজ চলছে। (Nigeria ISIS Attack)
নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলা সন্ত্রাসবাদী তৎপরতায় হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালালেও জঙ্গিদের এ ধরনের নৃশংস হামলা অব্যাহত রয়েছে।

