শুক্রবার পাকিস্তানের সুইসাইড বোম্ববিং এর ঘটনায় সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। হামলার দায় সরাসরি স্বীকার করলো ইসলামিক স্টেট নামে জঙ্গি সংগঠন আইএস(IS)। ২০০৮ সালে পাকিস্তানের ম্যারিয়ট হামলার পর ইসলামাবাদে এটিই সবথেকে ভয়াবহ হামলা
ইসলামাবাদের তারলাই কালান এলাকায় অবস্থিত খদিজাতুল কুবরা মসজিদ। সেই শিয়া মসজিদের ইমামবারায় শুক্রবার জুম্মার নামাজের সময়ই ঘটে এক ভয়াবহ আত্মঘাতী বিস্ফোরণ। জানা গিয়েছে, ঘটনায় কমপক্ষে ৬৯ জন নিহত এবং প্রায় ১৬৯ জন আহত হয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, হামলাকারী একজন আত্মঘাতী বোমারু(Suicide bomber)। মসজিদের প্রবেশপথে নিরাপত্তারক্ষীদের বাধার মুখে সে গুলি চালায় এবং পরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটায়। জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) তাদের পাকিস্তান শাখার মাধ্যমে হামলার দায় স্বীকার করেছে। সংগঠনটি দাবি করেছে, তাদের একজন সদস্যই এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। এমনকি তারা হামলাকারীর ছবিও প্রকাশ করেছে বলে খবর।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসবাদী আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁরা দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির আশ্বাস দেন। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ দাবি করেন, হামলাকারীর বিদেশি সংযোগ ছিল এবং সে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে প্রবেশ করেছিল। তবে এই দাবি এখনও সম্পূর্ণরূপে যাচাই করা হয়নি।
হামলার পরপরই পাকিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে। মার্কিন নাগরিকদের ভিড়পূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং স্থানীয় পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখতে বলা হয়। দূতাবাস এক বিবৃতিতে হামলার নিন্দা জানিয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে।
এই ঘটনায় কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়াও দেখা দিয়েছে। ভারত সরকার বিস্ফোরণের নিন্দা জানিয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে। পাকিস্তানের তরফ থেকে ভারতকে ঘটনার জন্য দায়ী করা হয়। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ এই হামলার ঘটনায় ভারত ও আফগানিস্তানের যোগ রয়েছে বলে, দাবি জানান।
যদিও এই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের বিদেশমন্ত্রক জানায়, সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যার দায় অন্য দেশের ঘাড়ে চাপানোর প্রবণতা থেকে পাকিস্তানের বেরিয়ে আসা উচিত।
এই হামলা পাকিস্তানে চলমান সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও জঙ্গি কার্যকলাপের প্রবণতাকে আবারও সামনে আনল। বিশেষ করে শিয়া সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে জঙ্গি সংগঠনগুলির হামলা দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে, এই ঘটনার পর দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
