আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)-এর কঠোর সংস্কার কর্মসূচির মধ্যেই আগামী অর্থবর্ষে প্রতিরক্ষা খাতে (Pakistan Defence Budget) বড়সড় ব্যয় বৃদ্ধির পথে হাঁটছে পাকিস্তান। IMF এর সহায়তায় চলা ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বর্ধিত তহবিল সুবিধা (ইএফএফ) এবং ১.৪ বিলিয়ন ডলারের রেসিলিয়েন্স অ্যান্ড সাস্টেনেবিলিটি ফ্যাসিলিটি (আরএসএফ)-এর আওতায় তৈরি হওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাজেট প্রায় ১০০ বিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি বাড়ানো হতে পারে।
পাকিস্তানের সংবাদপত্র ডন-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি অর্থবর্ষে প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ ছিল ২.৫৬৪ ট্রিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি। আগামী অর্থবর্ষে তা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ২.৬৬৫ ট্রিলিয়ন রুপিতে (Pakistan Defence Budget)। অর্থাৎ সামরিক খাতে ব্যয় বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত এমন সময় নেওয়া হচ্ছে, যখন পাকিস্তানকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে IMF-এর শর্ত মেনে কঠোর আর্থিক সংস্কার করতে হচ্ছে।
IMF রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে পাকিস্তানের মোট ফেডারেল রাজস্ব আদায় ১৭.১৪৪ ট্রিলিয়ন পাকিস্তানি রুপিতে পৌঁছতে পারে। যা চলতি অর্থবর্ষের তুলনায় ২ ট্রিলিয়নেরও বেশি এবং প্রায় ১৩.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। (Pakistan Defence Budget) সরকার কর আদায় বৃদ্ধি, ভর্তুকি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনিক ব্যয় কমানোর মাধ্যমে এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণের চেষ্টা করবে।
একই সঙ্গে কেন্দ্র ও প্রাদেশিক সরকার মিলিয়ে মোট সরকারি ব্যয় জিডিপির ০.২ শতাংশ বাড়িয়ে ৪.২২৭ ট্রিলিয়ন রুপিতে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে ইসলামাবাদ। এছাড়া ২০২৭ সালের জুন মাসের মধ্যে কেন্দ্র ও প্রদেশ স্তরের সমস্ত সরকারি পেমেন্ট ডিজিটাল মাধ্যমে আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
দুর্নীতি দমনের ক্ষেত্রেও IMF-এর চাপ স্পষ্ট। রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষের মধ্যে পাকিস্তান সরকার দেশের সবচেয়ে দুর্নীতিপ্রবণ ১০টি সরকারি প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করে তাদের বিশেষ অডিট ও বিশ্লেষণ করবে। পাশাপাশি প্রাদেশিক দুর্নীতি দমন সংস্থাগুলিকেও আরও শক্তিশালী করা হবে।
শুধু তাই নয়, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (SEZ), এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন এবং স্পেশাল টেকনোলজি জোনের জন্য নতুন কোনও কর ছাড় বা বিশেষ সুবিধা না দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে সরকার। বর্তমানে চালু থাকা সুবিধাগুলিও ধাপে ধাপে ২০৩৫ সালের মধ্যে তুলে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। IMF-এর মতে, এর ফলে ব্যবসার ক্ষেত্রে “সমান সুযোগের পরিবেশ” তৈরি হবে।
তবে এই অর্থনৈতিক সংস্কারের মধ্যেও পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের আর্থিক দুরবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পাকিস্তান সরকার স্বীকার করেছে, চরম দারিদ্র্যে থাকা এবং সামাজিক সহায়তা পাওয়া মানুষদের বাইরে দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ জনগণ এখনও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
বর্তমানে IMF-এর একটি প্রতিনিধি দল পাকিস্তানে রয়েছে এবং আগামী বাজেটের খসড়া চূড়ান্ত করতে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। আগামী মাসের শুরুতেই ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট (Pakistan Defence Budget) মন্ত্রিসভা ও সংসদে পেশ করা হতে পারে।
ভবিষ্যতে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষায় কী প্রভাব পড়তে পারে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, (Pakistan Defence Budget) প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধির ফলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণ, সীমান্ত নজরদারি, ড্রোন প্রযুক্তি, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং সাইবার নিরাপত্তা খাতে বিনিয়োগ বাড়তে পারে। বিশেষ করে ভরতের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনা, আফগানিস্তান সীমান্তে জঙ্গি কার্যকলাপ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে মাথায় রেখেই ইসলামাবাদ সামরিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করতে চাইছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশের আশঙ্কা, ক্রমবর্ধমান ঋণ, মূল্যবৃদ্ধি এবং বেকারত্বের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে অতিরিক্ত ব্যয় সামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উপর চাপ বাড়াতে পারে। IMF এর শর্ত মেনে চলতে গিয়ে একদিকে যেমন আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে, অন্যদিকে বাড়তি সামরিক ব্যয় সামলানো পাকিস্তান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
‘পরিস্থিতি না বদলালে দারিদ্র্যের অন্ধকারে বিশ্ব’, জ্বালানি সংকট নিয়ে বিশ্বকে সতর্কবার্তা মোদির: Pakistan Defence Budget: খিদের জ্বালায় দেশ, ধার করে প্রতিরক্ষা খাতে খরচ বাড়াচ্ছে পাকিস্তান
