যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে মধ্যপ্রাচ্য। ইজরায়েল ও আমেরিকার (Pakistan Oil Crisis) লাগাতার হামলায় হরমুজ প্রণালী ‘বন্ধ’ রেখেছে ইরান। আর যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে গোটা বিশ্বের উপর। রীতিমত জ্বালানি সংকট শুরু হয়েছে ভারত-সহ আরও একাধিক দেশে। মূলত হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পরিবহন স্তব্ধ থাকায় এই দুর্দশা চরমে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে চরম বিপাকে পড়েছে ভারতের পড়শী দেশ পাকিস্তান। শেষ জ্বালানিটুকু বাঁচাতে রীতিমত লকডাউনের পথে হেঁটেছে দেশটি।
এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা বারবার দাবি করে এসেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও দীর্ঘ হলে, তার ব্যাপক প্রভাব পড়বে বিশ্বের অর্থনীতিতে। যার ফলে বাড়বে মুদ্রাস্ফীতিও। আর এই আশঙ্কার মধ্যেই এবার করুন পরিস্থিতি তৈরি হল পাকিস্তানে(Pakistan Oil Crisis)। সেখানে জ্বালানি বাঁচাতে রীতিমত স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাক প্রশাসন। পাশাপাশি সরকারি অফিসে কাজের দিনও কমিয়ে দেওয়ার কথা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখানেই শেষ না, আগামী দু’মাস সরকারি দফতরগুলোর বরাদ্দ জ্বালানির ৫০ শতাংশ কাটছাঁট করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
শুধু তাই নয়, শাহবাজ শরিফ বলেন, ফেডারেল মন্ত্রিসভা এবং প্রাদেশিক মন্ত্রিসভার সদস্যরা দুই মাসের জন্য তাদের বেতন এবং ভাতা ত্যাগ করবেন। একই সময়ের মধ্যে ফেডারেল এবং প্রাদেশিক আইন প্রণেতাদের বেতনও ২৫% কমানো হবে। পাশাপা|শি বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠান এবং ইফতার পার্টি নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং খরচ কমাতে হোটেলের পরিবর্তে সরকারি প্রাঙ্গণে সেমিনার এবং সম্মেলন আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছে।
তবে শুধু পাকিস্তান না, জ্বালানি সংকটে উদ্বেগ বেড়েছে আরও একাধিক দেশে। বাংলাদেশেও জ্বালানি ঘাটতির কারণে মোটরসাইকেলের জন্য দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার এবং গাড়ির জন্য ১০ লিটার জ্বালানি নেওয়ার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ৮ শতাংশ দাম বেড়েছে শ্রীলঙ্কায় জ্বালানির। আমেরিকার ফ্লোরিডা ও লুইজিয়ানায় গ্যাস পাম্পে প্রতি গ্যালনে দাম বেড়েছে প্রায় ১১ সেন্ট পর্যন্ত। অন্যদিকে ভিয়েতনামে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে।
এক সংবাদ মাধ্যম সূত্রের দাবি, এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকটে রাশ টানতে চলতি সপ্তাহের শেষ থেকেই পাকিস্তানের সমস্ত স্কুল আগামী দু’সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে অনলাইনের মাধ্যমে চলবে পড়াশোনা। একইসঙ্গে বদল করা হয়েছে অফিসের সময়সূচি। ব্যাঙ্ক বাদে সমস্ত সরকারি অফিস সপ্তাহে মাত্র চারদিন খোলা থাকবে।

