যুদ্ধের আবহ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X হ্যান্ডেলকে নিয়ে ছেলেখেলা করছিল পাকিস্তানের এক ব্যক্তি। সেই কারসাজি সহজেই ধরে ফেলেছেন X হ্যান্ডেল কর্তৃপক্ষ। এমনটা যাতে না করা যায়, তার জন্য কড়া পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। (Fake war videos on X)
X–এর হেড অব প্রোডাক্ট নিকিতা বাইয়ার জানিয়েছেন, ‘ইরান ওয়ার মনিটর’ নামে অন্তত ৩১ টি অ্যাকাউন্ট থেকে এআই দিয়ে তৈরি যুদ্ধের ভিডিয়ো ছড়ানো হচ্ছিল। ওই ৩১ টি অ্যাকাউন্টগুলি হ্যাক করা অথবা ভুয়ো। নীতিহীন এমন কাজটা করেছে পাকিস্তানের এক ব্যক্তি। তদন্তে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের ওই ব্যক্তি গোটা চক্রটি চালাচ্ছিল এবং পরিকল্পিত ভাবেই সেই সব কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছিল। (Fake war videos on X)
সংস্থার দাবি, ইরান-ইজরায়েল উত্তেজনার সময় হঠাৎ করে একাধিক ‘ব্রেকিং’ ভিডিয়ো ভাইরাল হয়। তাতে দাবি করা হয়, সেগুলি নাকি সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রের দৃশ্য। কিন্তু পরে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি ভিডিয়োই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা পরিভাষায় AI দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। বাস্তব ঘটনার সঙ্গে সেগুলির কোনও মিল ছিল না। পুরনো অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে নাম ও পরিচয় বদলে নতুন ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছিল, যাতে সাধারণ ব্যবহারকারীরা সহজে বুঝতে না পারেন। (Fake war videos on X)
একটি ভিডিয়োয় ইরান তেল আভিভে হামলা করছে এরকম দৃশ্য দেখানো হয়েছিল। পরে সেটি সম্পূর্ণ ভুয়ো বলে প্রমাণিত হয়। কিছু অ্যাকাউন্ট নিজেদের স্বাধীন যুদ্ধ পর্যবেক্ষক বা ঘটনাস্থল থেকে সরাসরি খবরদাতা বলেও দাবি করেছিল। তদন্তে সেই দাবিরও কোনও ভিত্তি মেলেনি।(Fake war videos on X)
ঘটনার পর সব ক’টি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছেন এক্স হ্যান্ডেল কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি জানানো হয়েছে, এআই-তৈরি কনটেন্ট পোস্ট করলে তা স্পষ্ট করে উল্লেখ করে দিতে হবে। নিয়ম না মানলে আয়-সংক্রান্ত সুবিধা সাময়িক বা স্থায়ী ভাবে বন্ধ করা হতে পারে। (Fake war videos on X)
যুদ্ধের সময় ভুয়ো তথ্য দ্রুত ছড়ালে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। এই ঘটনা আবারও দেখাল, সামাজিক মাধ্যমে দেখা সব কিছুই সত্যি নয়—তথ্য যাচাই করাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। (Fake war videos on X)

