ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ (Nepal-India Border) কূটনৈতিক আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমেই সমাধান করা হবে বলে জানালেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। রবিবার সংসদে প্রথম ভাষণে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বকেয়া সীমান্ত সমস্যাগুলি ‘টেবিল আলোচনা’ এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই মেটানোর লক্ষ্যে কাজ করবে তাঁর সরকার।
মার্চ মাসের নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এদিনই প্রথম সংসদে বক্তব্য রাখেন বালেন্দ্র শাহ। তিনি বলেন, “ভারতের সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা আলোচনার টেবিলে বসে এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমেই সমাধান করা হবে।”
(Nepal-India Border) বিশেষ করে লিপুলেখ-লিম্পিয়াধুরা-কালাপানি অঞ্চল নিয়ে নেপালের দাবির প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিষয়টি ইতিমধ্যেই কূটনৈতিক মাধ্যমে নয়াদিল্লির কাছে উত্থাপন করা হয়েছে এবং ভারতও তার জবাব দিয়েছে। শাহের দাবি, উভয় দেশই ইতিহাসবিদ ও ভূমি জরিপ বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে আলোচনার মাধ্যমে (Nepal-India Border) সমস্যার সমাধানে সম্মত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ব্রিটিশ শাসনকাল থেকে এই সীমান্ত বিতর্কের সূত্রপাত হওয়ায় ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গেও নেপাল আলোচনা করেছে। তাঁর মতে, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতায় কূটনৈতিক পথেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
(Nepal-India Border) ভারত ও নেপালের মধ্যে প্রায় ১,৭৫১ কিলোমিটার দীর্ঘ উন্মুক্ত সীমান্ত রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক এবং জনসংযোগ থাকলেও কালাপানি-লিম্পিয়াধুরা-লিপুলেখ অঞ্চল এবং দক্ষিণের সুস্তা এলাকাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত বিরোধ রয়েছে।
এই বিরোধের মূল উৎস ১৮১৬ সালের সুগৌলি চুক্তির ভিন্ন ব্যাখ্যা। ২০২০ সালে উত্তরাখণ্ডের ধারচুলা থেকে লিপুলেখ পাস পর্যন্ত সড়ক উদ্বোধনের পর উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। পরে নেপাল নতুন রাজনৈতিক মানচিত্র প্রকাশ করে, যেখানে কালাপানি, লিপুলেখ ও লিম্পিয়াধুরাকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দেখানো হয়। অন্যদিকে ভারত বরাবরই দাবি করে এসেছে যে বিতর্কিত অঞ্চলগুলি ভারতের অংশ এবং বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই সমস্ত সীমান্ত সমস্যা সমাধান হওয়া উচিত।
আরও পড়ুন: হরমুজে ফের উত্তেজনা, পণ্যবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আমেরিকার

