Site icon Hindustan News Point

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ, এবার ভারতের কাছে সাহায্যের আর্জি PoK নেতার

PoK Seeks India Help

[ছবি:এক্স]

ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ চরমে। খাদ্য ও ওষুধের সংকট, আন্দোলন দমনে গুলির অভিযোগ এবং স্বাধীনতার দাবিতে সরব পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (PoK)। এই আবহেই (PoK Seeks India Help) ভারতের কাছে মানবিক সাহায্যের আবেদন জানিয়ে নতুন করে আলোচনায় জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (JAAC)-এর নেতা সর্দার আমান খান।

পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) চলতে থাকা বিক্ষোভ ও অশান্তির মধ্যেই ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনের আহ্বান জানালেন জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (JAAC)-র নেতা সর্দার আমান খান। পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি এবং আন্দোলনকারীদের ওপর কঠোর দমন পীড়নের অভিযোগ তুলে তিনি নয়াদিল্লির কাছে মানবিক সাহায্য পাঠানোর আবেদন জানিয়েছেন। একইসঙ্গে নিয়ন্ত্রণরেখা (LoC) খুলে দেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তিনি। (PoK Seeks India Help)

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিয়োতে সর্দার আমান খানকে বলতে শোনা যায়, “আমাদের ভারতের সাহায্য প্রয়োজন। খাদ্যসামগ্রীর অভাব দেখা দিয়েছে। আমাদের সাহায্য করুন।” তাঁর দাবি, পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের জেরে বর্তমানে PoK-তে খাদ্য ও ওষুধের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে এবং পরিস্থিতি ক্রমশ বিপর্যয়ের দিকে এগোচ্ছে।

(PoK Seeks India Help) রাওয়ালাকোটের ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাঁদের কি নিয়ন্ত্রণরেখার দিকে এগিয়ে যাওয়া উচিত? সমাবেশে উপস্থিত জনতা বারবার “এগিয়ে যান” বলে সাড়া দেয়। আমান খান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের দাবি যদি গুলি চালিয়ে দমন করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে তাঁদের সামনে “অন্য পথও” খোলা রয়েছে।

(PoK Seeks India Help) তিনি আরও দাবি করেন, পুঞ্চ এবং ডোডা সেক্টরে নিয়ন্ত্রণরেখা খুলে দেওয়া হোক, যাতে সাধারণ মানুষ প্রয়োজনে ভারতে আসার সুযোগ পান। তাঁর অভিযোগ, ইসলামাবাদের দমনমূলক নীতি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলছে।

উল্লেখ্য, গত মাস থেকে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। (PoK Seeks India Help) গত সপ্তাহে রাওয়ালাকোটের ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত এক বৃহৎ সমাবেশে আন্দোলনকারীরা “PoK পাকিস্তানের অংশ নয়” এবং “আমরা স্বাধীনতা চাই”— এই ধরনের স্লোগান দেন। বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সংস্কার দাবির আন্দোলন এখন ধীরে ধীরে পাকিস্তানের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ থেকে স্বাধীনতার দাবিতে রূপান্তরিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, PoK-এর বর্তমান রাজনৈতিক সংকট স্থানীয় জনগণ ও ইসলামাবাদ-নিয়ন্ত্রিত প্রশাসনের মধ্যে গভীর বিচ্ছিন্নতাকে সামনে এনে দিয়েছে। তাঁদের মতে, জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটিকে “সন্ত্রাসবাদী সংগঠন” হিসেবে ঘোষণা করা এবং আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ পাকিস্তানের বৃহত্তর সামরিক-কেন্দ্রিক কৌশলেরই প্রতিফলন।

প্রসঙ্গত, গত ৫ জুন পাকিস্তান সরকার JAAC-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এরপর থেকেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর পিস স্টাডিজ (ICPS)-এর একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর ও পাকিস্তান অধিকৃত গিলগিট-বালুচিস্তানে দীর্ঘদিন ধরেই ইসলামাবাদের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে এবং স্থানীয় রাজনৈতিক শক্তিগুলির পরিসর ক্রমশ সংকুচিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ইসলামাবাদে যে দল ক্ষমতায় থাকে, সেই দলই ধারাবাহিকভাবে PoK এবং PoGB-র নির্বাচনে জয়ী হয়, যা নিছক কাকতালীয় বলে মনে করা কঠিন।

পশ্চিমবঙ্গের অস্তিত্ব রক্ষার নেপথ্য নায়ক: ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান


Exit mobile version