Site icon Hindustan News Point

ইংরেজ শিশুদের যৌন নির্যাতন, ইংল্যান্ডে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে পাকিস্তানের ‘গ্রুমিং গ্যাং’

Pak Grooming Gang

ইংলিশ চ্যানেলের পারে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে পাকিস্তানের ‘গ্রুমিং গ্যাং’(Pak Grooming Gang)। তাদের ভয়ে কাঁটা ব্রিটিশ শৈশব। নাবালক-নাবালিকাদের যৌন নির্যাতন থেকে শুরু করে মাদকাশক্তি বা ধর্ম পরিবর্তন, কিছুই নাকি বাকি রাখছে না পাক দুষ্কৃতীরা।

ব্রিটিশ এমপি রুপার্ট লোর আমেরিকায় সম্প্রতি এক ভাষণে এমই এক ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন। যার পর ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আলোড়ন ফেলেছে ‘গ্রুমিং গ্যাং’ বা যৌন নিপীড়নকারী চক্রগুলো। যারা এই দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ‘দলবদ্ধ শিশু যৌন শোষণে’ লিপ্ত। এই চক্রগুলির বিরুদ্ধে আমেরিকা তদন্ত চালিয়ে জানতে পেরেছে, যৌন নির্যাতনের সঙ্গে যুক্ত অধিকাংশ অপরাধীরাই ‘পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ট্যাক্সি চালক ও বাজার ব্যবসায়ী’। রুপার্ট লোর আরও বলেন, “আমি এই সংসদকে আন্তরিকভাবে আহ্বান জানাচ্ছি, উপযুক্ত তদন্ত করে এদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিন।”

কী এই ‘গ্রুমিং গ্যাং’? কী ভাবেই বা ইংরেজ নাবালক-নাবালিকাদের যৌন নির্যাতনের শিকার বানাচ্ছে তারা? ব্রিটিশ পুলিশ একে সংগঠিত অপরাধ হিসাবে চিহ্নিত করেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই দলের সদস্যদের নিশানায় মূলত স্কুল বা শিশু আবাসিক কেন্দ্রগুলি থাকে। সেখানেই গাড়ি এবং বিভিন্ন উপহার সামগ্রী নিয়ে ঘোরাঘুরি করে তারা।

‘গ্রুমিং গ্যাং’য়ের মধ্যে এমন কয়েক জন রয়েছে, যারা কথাবার্তায় বেশ পটু। নাবালক-নাবালিকাদের সঙ্গে দ্রুত বন্ধুত্ব পাতিয়ে ফেলে। এর পর চকোলেট এবং বিভিন্ন উপহার দিয়ে তাদের বিশ্বাস অর্জন করেন। শেষে ওই কিশোর বা কিশোরীকে মদ-সিগারেট এবং অন্যান্য মাদকের নেশা ধরায় তারা। শেষ ধাপে তাদের তুলে নিয়ে গিয়ে চলে যৌন নির্যাতন। এর পাশাপাশি ‘গ্রুমিং গ্যাং’য়ের বিরুদ্ধে রয়েছে ধর্মান্তরকরণের অভিযোগও।

তদন্তকারীদের দাবি, ১৯৯৭ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে সেখানে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১,৪০০টি শিশু। এই সংখ্যা ৪০ হাজারে পৌঁছতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ‘গ্রুমিং গ্যাং’য়ের হাত থেকে নিস্তার পায়নি ১১ বছরের কিশোরীও। মানব পাচারের সঙ্গেও এই দুষ্কৃতীরা জড়িত বলে গোয়েন্দা সূত্রে মিলেছে খবর।


Exit mobile version