ফের একবার ইউক্রেনের উপর বিধ্বংসী হামলা রাশিয়ার। রাতভর ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলায় অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। আহত কমপক্ষে ১৩৮ জন। চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলতে থাকা এই যুদ্ধে দুই দেশের সংঘাত যে আরও তীব্র হচ্ছে, সাম্প্রতিক এই হামলা তারই ইঙ্গিত।
মঙ্গলবার ইউক্রেনের তরফে জানানো হয়েছে, রাশিয়ার তরফে রাতভর শত শত ড্রোন এবং কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে হামলা চালানো হয় রাজধানী কিয়েভ-সহ একাধিক শহরে। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ডনিপ্রো অঞ্চলে। সেখানে বহু আবাসিক ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসাবশেষের নীচ থেকে এক ৩ বছরের শিশুসহ একাধিক দেহ উদ্ধার করেছেন। কিয়েভেও বেশ কয়েকটি বহুতল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। (Russia- Ukraine War)
ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া এক রাতেই ৬৫০-র বেশি ড্রোন এবং ৭৩ টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। যদিও ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেকগুলি ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে, তবুও বেশ কিছু তাদের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। এর ফলে আবাসিক এলাকা, বিদ্যুৎ পরিকাঠামো এবং বিভিন্ন অসামরিক ভবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কিয়েভ সিটি মিলিটারি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রধান তিমুর তাকাচেঙ্কো জানিয়েছেন, রাজধানীতে অন্তত ৮১ জন আহত হয়েছেন। যখন রাশিয়ার করা বিস্ফোরণের জেরে গোটা শহর কাঁপছিল তখন ৩৭ বছর বয়সী ইরিনা সালিকোভা (কিয়েভের বাসিন্দা) তাঁর ৩ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে সুরক্ষার জন্য একটি বাথটাবে শুয়ে রাত কাটিয়েছেন।
সালিকোভা বলেন, “আমাদের জানালার কাঁচ ভেঙে গিয়েছিল। একটি পাথরের টুকরো উড়ে এসে বাচ্চাদের ঘরে পড়েছে,” যদিও তারা আহত হননি বলে জানান তিনি। সালিকোভা বলেন, “ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, আমরা বেঁচে আছি। আমরা ভাগ্যবান, তাই আজ অক্ষত আছি।” (Russia- Ukraine War)
রাশিয়ার করা এই হামলায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিও। তাঁর অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবে ইউক্রেনে অসামরিক এলাকাকে নিশানা করছে পুতিনের দেশ। তিনি পশ্চিমি দেশগুলির কাছে আরও উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর মতে, পর্যাপ্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকলে এ ধরনের হামলা ভবিষ্যতেও চলতে থাকবে।
আকাশসীমায় দাপট দেখাল ‘রুদ্রম-২’, এবার নিমেষে শেষ হবে শত্রুপক্ষের বিমান!
অন্যদিকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের সামরিক ঘাঁটি এবং এলাকাগুলি। তবে ইউক্রেনের অভিযোগ, বাস্তবে সাধারণ মানুষের বসবাসের এলাকাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। (Russia- Ukraine War)
সম্প্রতি বেশ কিছু দিন ধরেই রাশিয়া ধারাবাহিকভাবে ইউক্রেনের একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেওয়াই মস্কোর প্রধান লক্ষ্য। নতুন এই হামলার পর ইউক্রেনজুড়ে আবারও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং আরও বড় আক্রমণের আশঙ্কায় দিন গুনছেন সে দেশের মানুষ।

