ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়। বিশেষ করে এই চুক্তির প্রভাব ভারত-রাশিয়ার সম্পর্কের উপরে কোনও প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে। রাশিয়াকে চাপে রাখতে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল ভারতকে কিনতে না বলেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের অনুমান, তেল বিক্রির অর্থ দিয়েই ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ জিয়িয়ে রাখছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ভারতকে রাশিয়া থেকে তেল কেনা থেকে বিরত রাখাতে ছক কষেণ ট্রাম্প। ভারতীয় পণ্যের উপরে ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপায় আমেরিকা। এ নিয়ে ভারত ও আমেরির মধ্যে দীর্ঘদিন টানাপোড়েন চলতে থাকে। শেষে রাশিয়া থেকে ভারত তেল না কেনার আশ্বাস পাওয়ার পর ভারতীয় পণ্যের উপরে ২৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশে নিয়ে আসে আমেরিকা। রাশিয়া থেকে তেল না কেনায় ট্রাম্প বোধহয় ভেবেছিলেন, তেন নিয়ে ভারত-রাশিয়ার সম্পর্কের মধ্যে ফাটল ধরাতে পারবেন। India Us Trade Deal
দক্ষ কূটনীতিবিদ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমি পুতিন। ট্রামের ছলাকলাকে কোনও গুরুত্বই দেননি। এই বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে রাশিয়া কার্যত ট্রাম্পের ভাবনাকে নস্যাৎ করে দিলেন পুতিন । মস্কো সাফ জানিয়েছে, ভারত একটি সার্বভৌম দেশ এবং সে যে কোনও দেশ থেকেই তেল কেনার পূর্ণ স্বাধীনতা রাখে- “নয়াদিল্লি যে কোনও দেশ থেকেই তেল কিনতে স্বাধীন।” রাশিয়ার বিদেশ মন্ত্রকের তরফে আরোও জানানো হয়েছে, ভারত–রাশিয়া সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং তা পারস্পরিক আস্থা ও স্বার্থের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়া আগেও পাশে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে। ভারত কোন দেশ থেকে কতটা তেল কিনবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার সম্পূর্ণভাবে ভারতের নিজের। India Us Trade Deal
উল্লেখ্য, ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমি দেশগুলির নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ভারত রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণে অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে। এতে ভারতের জ্বালানি খরচ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়। কিন্তু ট্রাম্প যে এই বিষয়টি ভালো নজরে দেখেননি তা বলাই বাহুল্য।বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত তার ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ নীতিতেই অটল রয়েছে। অর্থাৎ জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে একাধিক দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাই ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান। পুতিন বা ট্রাম্প কাউকেই নারাজ করতে চায়না ভারত।
রাশিয়ার এই মন্তব্যের ফলে পরিষ্কার হয়ে গেল, ভারত তার জ্বালানি নীতি নির্ধারণে সম্পূর্ণ স্বাধীন। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করার প্রশ্নই ওঠে না। India Us Trade Deal

