বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা। ভোটগ্রহণের পরই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) এই নির্বাচন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, জনগণ এই ভোটকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং সমগ্র নির্বাচন প্রক্রিয়া ছিল অবৈধ ও অসাংবিধানিক।
এক বিবৃতিতে শেখ হাসিনা দাবি করেন, ভোটারদের উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত কম, যা প্রমাণ করে সাধারণ মানুষ এই নির্বাচনে আস্থা রাখেননি। তিনি জানান, সকাল ১১টা পর্যন্ত মাত্র ১৪.৯৬ শতাংশ ভোট পড়েছে। তাঁর কথায়, এত কম ভোটারের উপস্থিতি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে দেশের মানুষ এই ভোট প্রক্রিয়াকে সমর্থন করেনি।
হাসিনার আরও অভিযোগ, নির্বাচন চলাকালীন বিভিন্ন জায়গায় ভয়ভীতি প্রদর্শন, জোরপূর্বক ভোটদান, ভোটকেন্দ্র দখল, গুলিবর্ষণ, ভোট কেনাবেচা এবং ব্যালট পেপারে জোর করে সিল মারার মতো ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে সাধারণ ভোটাররা নিরাপদ বোধ করেননি, যার ফলে ভোটদানে অনীহা দেখা যায়। তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের সমালোচনা করে বলেন, ‘তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে এই নির্বাচন নিরপেক্ষ হতে পারে না’। শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) দাবি, আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি। দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, গ্রেফতার ও নিপীড়নের অভিযোগও তোলেন তিনি।
শেখ হাসিনা স্পষ্ট ভাষায় জানান, এই নির্বাচন জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রের চেতনাকে ক্ষুণ্ণ করেছে। তাই অবিলম্বে এই ভোট বাতিল করে নতুন করে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। পাশাপাশি, রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং আওয়ামী লীগের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথাও বলেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এমনিতেই টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। তারই মধ্যে শেখ হাসিনার এই দাবি দেশের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার, নির্বাচন কমিশন ও বর্তমান সরকার এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।

