স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলের আলমেরিয়া প্রদেশে ভয়াবহ দাবানল। আগুনে পুড়ে মৃত্যু ১২ জনের। আহত ৮ জন এবং ২৩ জন এখনও নিখোঁজ। সাম্প্রতিক অতীতে এমন ভয়ংকর দাবানল দেখেনি স্পেন। তাই এই ঘটনাকে অন্যতম প্রাণঘাতী দাবানল হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ৩,৮০০ হেক্টর এলাকা আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। উদ্ধারকাজে নেমেছে পুলিশ ও প্রশাসন।
প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, একটি বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পরা থেকেই আগুনের সূত্রপাত। কিন্তু আগুন এত দ্রুত ছড়াতে থাকে যে, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক মাসে টানা তাপপ্রবাহের জেরে গাছপালা শুকিয়ে যাওয়ায়, প্রবল খরা এবং ঝোড়ো হাওয়ার কারণে আগুন দাবানলের রূপ নেয়। আগুনের গ্রাস দমকল বাহিনীর পক্ষে তা সামাল দেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত,এখনও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। (Spain Wildlifire)
এই দাবানলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত লস গালার্দোস ও বেদার এলাকার। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সেখানে বাড়ি বাড়ি গিয়ে অনেক বাসিন্দাকে নিরাপদে ঘরের ভিতরে থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে আতঙ্কে কয়েকজন গাড়ি নিয়ে এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করায় তাঁদের মধ্যে চারজন একটি গাড়ির মধ্যেই আগুনে পুড়ে মারা যান। গাড়িটির স্টিয়ারিং ডান দিকে থাকায় প্রশাসনের ধারণা, তাঁরা ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন। আরও আটজন গাড়ি ছেড়ে পায়ে হেঁটে পালানোর চেষ্টা করলেও আগুনের কবল থেকে আর বেরোতে পারেননি। জানা গিয়েছে, তাঁরা নির্দিষ্ট নিরাপদ রাস্তা ছেড়ে একটি শুকনো নদীখাত দিয়ে বেরোতে গিয়েছিলেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। মৃতদের মধ্যে ব্রিটেন ও বেলজিয়ামের নাগরিকও থাকতে পারেন বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
ইতিমধ্যে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো স্যাঞ্চেজ নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই ঘটনায় তিনি ‘অত্যন্ত দুঃখিত ও মর্মাহত’। (Spain Wildlifire)
MCG-তে মোদি-অ্যালবানিজের ক্রিকেট কূটনীতি, প্রতিরক্ষা-পরমাণু সহযোগিতায় বড় সিদ্ধান্ত
ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের অগ্নিবিজ্ঞানী গিয়ের্মো রেইনের মতে, সাম্প্রতিক তাপপ্রবাহে বনাঞ্চলের গাছপালা এতটাই শুকিয়ে গিয়েছিল যে সেগুলিতে দ্রুত আগুন ধরে যায়। তার উপর প্রবল ঝোড়ো হাওয়া আগুনকে আরও দ্রুত বসতি এলাকার দিকে ঠেলে দেয়। অন্যদিকে, ইউনিভার্সিটি অব ভিগোর গবেষক হুয়ান পিকোসের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চল জনশূন্য হয়ে যাওয়ায় বনাঞ্চলে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ঝোপঝাড় বেড়েছে, যা দাবানলের ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
এই পরিস্থিতিতেও বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, শুধু আগুন নয়, দাবানলের ঘন ধোঁয়াও অত্যন্ত প্রাণঘাতী। একটি গবেষণা বলছে, বিশ্বজুড়ে দাবানলের ধোঁয়ার কারণে প্রতি বছর প্রায় ১৫.৩ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়। তাই এখন আতঙ্কিত না হয়ে প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের অপেক্ষা করা ছাড়া এখন কিছুই করার নেই। যেকোনও হঠকারী সিদ্ধান্ত বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। (Spain Wildlifire)

