Site icon Hindustan News Point

Taliban’s New Inhumane Law: নয়া তালিবানি আইন, মহিলা ও শিশুর ওপর নির্মম অত্যাচার আইনসম্মত!

Taliban's New Inhumane Law

দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে গোটা বিশ্ব। আর তার ঠিক উল্টো পথে এগোচ্ছে আফগান মুলুক। দিনের পর দিন যেন সর্বনেশে হয়ে উঠছে আফগানিস্তানের আইন কানুন। বিশেষ করে সে দেশের মহিলা জন্য চালু হওয়া নয়া আইন মধ্যযুগীয় বর্বরতা কেও হার মানাতে পারে। নয়া আইনের আওতা থেকে বাদ যাচ্ছে না শিশুরাও। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে আফগান মহিলাদের উপরে ক্রীতদাসের মতো ব্যবহার করার নিধানও রয়েছে সেই আইনে। কী রয়েছে সেই আইনে? যাতে কিনা তালিবান শাসিত সরকারকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ও অধিকার কমিশনারদের কঠোর সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে ?

এই আইন বলছে , পরিবারে পুরুষ সদস্যরা স্ত্রী ও সন্তানদের শরীরিকভাবে নির্যাতন করতেই পারবেন। সে নির্যাতন অতি নির্মম হতে পারে। মারতে মারতে হাড়গোড় ভেঙে না যাওয়া পর্যন্ত , কিংবা শরীরে বড় কোনও ক্ষত না দেখা পর্যন্ত নির্যাতন চলতে পারে । মানে হাড়গোড় না ভাঙা পর্যন্ত যথেচ্ছ মারধর করার অধিকার পুরুষদের দিচ্ছে তালিবান সরকার। যতক্ষণ না শরীরের কোনও হাড় ভাঙছে বা ত্বকে ক্ষত সৃষ্টি হচ্ছে, ততক্ষণ কোনও শরীরিক অত্যাচার অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না। ভাবতে পারছেন কি সাংঘাতিক নৃশংস! ভাবলে শিউরে উঠতে হয় । Taliban’s New Inhumane Law

নতুন তালিবানি আইনে আরও বলা হচ্ছে, নির্যাতনের পর শরীরের হাড় ভাঙা, দৃশ্যমান ক্ষত বা তীব্র আঘাতের প্রমাণ থাকলে, তবেই সেই ব্যক্তিকে অভিযুক্ত হিসেবে ধরা হবে ।

এমন ক্ষেত্রেও অভিযুক্তর বিরুদ্ধে শাস্তিরও বিধান দেওয়া হয়েছে নয়া আইনে। কী হতে পারে শান্তি? সে শাস্তিও হাস্যকর। মাত্র পনের দিনের কারাদণ্ড। কিন্তু তার জন্যও সঠিক প্রমাণ থাকা বাধ্যতামূলক। উল্লেখ্য আফগানিস্তানে নারীর আইনগত স্বাধীনতা সীমাবদ্ধ। এখানে নারীকে সাধারণত পুরুষ অভিভাবক ছাড়া আদালতে স্বতন্ত্রভাবে উপস্থিত হওয়ারও সুযোগ দেওয়া হয় না। ফলে এই নয়া আইনের প্রভাব যে সেখানে আরও মারাত্মক হতে চলেছে তা বলাই বাহুল্য।

আইনী বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নতুন কোডে নারীদের বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতন, যৌন নির্যাতন বা অপরাধের অন্যান্য নানাবিধ রূপ স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করা হয়নি। ফলে এই আইন লাগু হলে আফগান মহিলা ও শিশুদের ওপর অত্যাচার আরও কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। এহেন তুঘলকি কাজকর্ম কোথায় ঠেলে দিচ্ছে আফগানিস্তানের মেয়েদের।

তালিবান সরকারের ৯০ পাতার পেনাল কোড আইনে বলা হচ্ছে সেদেশের পুরুষরা, স্বামীরা শাসন করতে পারবেন স্ত্রী ও সন্তাদের। কোনও অন্যায় করলে তার শাস্তি দেওয়া যাবে। শাস্তি হিসেবে বেধড়ক মারধর।Taliban’s New Inhumane Law

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন, বিশেষ করে আফগান নাগরিক সমাজ সংগঠন ও নারীসুরক্ষা সংস্থাগুলি বলছে, এই আইন নারী ও শিশুদের আইনি সুরক্ষাকে বঞ্চিত করছে এবং মানবাধিকারকেও লঙ্ঘন করছে। এটি শুধু নির্যাতনকে বৈধতা দিচ্ছে না, বরং সংবিধানিক ও সমানাধিকার ভিত্তিক ন্যায়ের মৌলিক নীতিগুলোকে অবজ্ঞা করছে। এখন প্রশ্ন ২০২৬ সালে দাঁড়িয়েও কেন মহিলা ও শিশুদের ওপর এমন বর্বর আচরণ করা হবে? কেন এমন কালাআইন প্রণয়ণ হবে? আইনটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির বিপরীত বলে ইতিমধ্যে সমালোচকরা মন্তব্য করেছেন।


Exit mobile version