Site icon Hindustan News Point

Tarique Rahman-Bangladesh Election: ২০ বছর পর মসনদে BNP, খালেদাপুত্র তারেকের হাত ধরে নতুন দিনের আশায় বাংলাদেশ

Tarique Rahman

১৭ বছর পর ব্রিটেন থেকে দেশে ফিরে বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন BNP নেতা ও প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান (Tarique Rahman)। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউল রহমান এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র এবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে বসার দৌড়ে সবার আগে রয়েছেন। উপমহাদেশের রাজনীতিতে বাবা–মায়ের পর ছেলের এইভাবে রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষে আসাকে এক বিরল ঘটনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ২০ বছর পর বাংলাদেশের মসনদে BNP।

সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনকে বহু সংখ্যক ভোটার বয়কট করলেও প্রাপ্ত ভোটের নিরিখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (BNP) বড় জয়ের পথে। দলটি ২০০ বা তার বেশি আসন পেতে পারে বলে প্রাথমিক হিসাব ইঙ্গিত দিচ্ছে। অন্যদিকে ক্ষমতায় আসার আশা দেখানো জামায়াতে ইসলামী প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। দলের আমির শফিকুর রহমানের পরাজয়কে সেই ব্যর্থতারই প্রতীক। জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কট্টর ভারত-বিরোধী NCP-র ফলও হতাশাজনক, একাধিক ছাত্রনেতাও ভোটে হেরে গিয়েছেন। যার থেকে একটা ছবি পরিষ্কার, বাংলাদেশ তরুণদের সুযোগ দিলেও সিরিয়াস কারও হাতেই দেশের ভার দিতে চাইছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মৌলবাদী শক্তিকে ক্ষমতায় বসানোর অনীহাই থেকেই এই ফলাফল। পর্যবেক্ষকদের মতে, পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার ডাক দেওয়া বা বঙ্গবন্ধুর মূর্তি অবমাননার মতো বিতর্কিত ঘটনাগুলির বিরুদ্ধে জনতা স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। আওয়ামি লিগ এই নির্বাচনে অংশ না নিলেও তাদের প্রভাব যে পুরোপুরি মুছে যায়নি, তা-ও স্পষ্ট। দলনেত্রী শেখ হাসিনা ভোট বয়কটের ডাকে উল্লেখযোগ্য সাড়া মিলেছে বলে দাবি বিভিন্ন মহলের। অনুমান করা হচ্ছে, প্রায় ৫০ শতাংশ বা তারও বেশি ভোটার ভোটকেন্দ্রে যাননি; কেউ কেউ ভয়ভীতির মধ্যেও গিয়ে ব্যালট নষ্ট করেছেন।

হাসিনা দেশ ছাড়ার পর প্রায় দেড় বছর স্থায়ী সরকার না থাকায় প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হয়েছিল। সেই সময়ে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলা, সাংবাদিক নির্যাতন, কুখ্যাত জঙ্গিদের মুক্তি, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার প্রভাব বৃদ্ধি—এমন নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। অন্তর্বর্তী পর্যায়ে মুহাম্মদ ইউনূসের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে; তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক শিথিলতা ও কিছু তরুণ নেতার দাপটকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচনের মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক দল হিসেবে BNP-র প্রত্যাবর্তনকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান—এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও ভোট প্রচারে গুরুত্ব পেয়েছে। এক সময় রাজাকার তকমা পাওয়া জামায়াত অতীতের ভুলের জন্য ক্ষমা চাইলেও ভোটারদের আস্থা পায়নি বলে মনে করছেন অনেকে।এ বার নির্বাচনে দুই ধর্মনিরপেক্ষ নেতা- রুমিল ফারাহান ও মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের জয়ও বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। প্রবীণ BNP নেতা ফজলুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে সরব হয়ে ভোট চান এবং জয়ের পর তাঁর সাফল্যকে বঙ্গবন্ধু ও জিয়ার আদর্শের জয় হিসেবে উল্লেখ করেন। রাজনৈতিক মহলে এই বক্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। Bangladesh Election

তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। কট্টরপন্থী শক্তি পরাজিত হলেও তারা রাজনীতি থেকে হারিয়ে যায়নি। ভবিষ্যতে সরকার গঠনে তাদের সমর্থন বা চাপ কীভাবে সামাল দেবেন তারেক রহমান, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। নির্বাচনী প্রচারে তিনি স্পষ্ট করেছেন, দিল্লি বা পাকিস্তানের দিকে তাকিয়ে নয়—বাংলাদেশ নিজের পথেই এগোবে। তাঁর এই অবস্থান যেমন ইসলামপন্থী মহলে অস্বস্তি তৈরি করেছে, তেমনই নয়াদিল্লিতেও কৌতূহল তৈরি করেছে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলেও এই ফলকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে দেখা হচ্ছে, কারণ জামায়াত জিতলে সীমান্ত রাজনীতিতে মেরুকরণের প্রভাব পড়তে পারত বলে আশঙ্কা ছিল। আগামী দিনে দুই দেশের সম্পর্কে সমীকরণ পাল্টাবে কিনা তাও সময় বলবে। তবে ইতিমধ্যেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর এক্স পোস্টে তারেক রহমান ও বিএনপির নির্বাচনে জয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন।

এখন প্রশ্ন, আওয়ামি লিগের ভবিষ্যৎ কী হবে? বা আওয়ামি লিগের যেই নেতারা দেশছাড়া তাদের কি ফেরানো হবে?


Exit mobile version