বালোচিস্তানে যুদ্ধ যেন আর থামছেই না। এবার বালোচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন Baloch Liberation Army (বিএলএ) দাবি করেছে তারা সাতজন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সদস্যকে আটক করেছে এবং পাকিস্তান সরকারকে সাত দিনের মধ্যে বন্দি বিনিময়ের জন্য সম্মত হওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে। সঙ্গে জানিয়েছে, যদি এই সময়সীমার মধ্যে দাবি পূরণ না হয়, তবে ওই সাত বন্দীকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হবে।
সংগঠনের দাবি তারা তাদের “অপারেশন হেরোফ ২.০” অভিযান চলাকালীন এই পাকিস্তানি সেনাদের আটক করেন। সংগঠনের তরফে বলা হয়েছে, এই অভিযানের সময় তারা মোট ১৭ জন পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মীকে আটক করেছিল, যাদের মধ্যে ১০ জনকে আবার ছেড়ে দেওয়া হয়েছে কারণ তারা বালোচ বংশোদ্ভূত ও স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে যুক্ত। বাকি সাতজনকে তারা এখনও আটক অবস্থায় রেখেছে।
বিএলএ-র মিডিয়া শাখা ‘হাক্কাল’ এক ভিডিয়ো বার্তায় দাবি করেছে, বন্দিদের বিরুদ্ধে ‘বালোচ ন্যাশনাল কোর্ট’-এ অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলির মধ্যে রয়েছে নাগরিকদের ওপর নির্যাতন, উগ্র নিরাপত্তা অপারেশনে অংশ নেওয়ার মতো গুরুতর অপরাধ।
ভিডিয়োতে দেখা যায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পোশাক পরে সাতজনকে হাঁটু গেড়ে বসানো অবস্থায় রাখা হয়েছে। এতে একজন দাবি করেন যে তিনি ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন এবং ছুটিতে বাড়ি ফিরার পথে বিএলএ’র হাতে আটক হন। তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সংগঠনের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য,পাকিস্তান সরকার বা সেনা বাহিনী এখনও পর্যন্ত এই ইস্যুতে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
বালোচিস্তান প্রদেশে দীর্ঘদিন ধরেই সরকার বিরোধী বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘাত চলছে। এই সংঘাতের ফলে এলাকায় ইতিমধ্যেই বিভিন্ন বড় হামলা, অপহরণ ও আক্রমণের মত ঘটনা ঘটেছে, যা সাম্প্রতিক সময়েও তীব্র আকার নিয়েছে। তার মধ্যে এই নতুন ঘটনার ফলে বালোচিস্তানে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
এখন দেখার বিষয় এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান সরকারের থেকে কী প্রতিক্রিয়া আসে এবং ভবিষ্যতে অদেও কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় কিনা।

