পশ্চিম এশিয়ায় ইরান ও আমেরিকা উত্তেজনার আবহে আচমকাই আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রে উঠে এসেছে পাকিস্তান। আর সেই পরিবর্তনের মুখ হিসেবে উঠে আসছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য এবং আন্তর্জাতিক মহলের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট, ইসলামাবাদ এখন নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক খেলোয়াড় হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। (Donald Trump Asim Munir)
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ইরানের সঙ্গে আমেরিকার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ‘পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের অনুরোধে আপাতত ইরানের উপর হামলা স্থগিত রাখা হচ্ছে।’ তবে একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নৌ অবরোধ জারি থাকবে যতক্ষণ না তেহরান শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় বসছে।'(Donald Trump Asim Munir) পাকিস্তানও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে এবং ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠক নিয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছে।
গত ২০২৫ সালে ট্রাম্প একাধিকবার প্রকাশ্যে আসিম মুনিরের প্রশংসা করেছেন। কখনও তাঁকে “গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি”, কখনও “দারুণ যোদ্ধা”, আবার কখনও “প্রিয় ফিল্ড মার্শাল” বলেও উল্লেখ করেছেন। আল জাজিরার রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের পর থেকেই আন্তর্জাতিক মহলে মুনিরের প্রভাব বেড়েছে। কাশ্মীরে হামলার পর ভারত-পাক উত্তেজনা, তারপর ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ও সবকিছুর পর পাকিস্তান সেই পরিস্থিতিকে কূটনৈতিকভাবে কাজে লাগাতে সক্ষম হয়েছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। (Donald Trump Asim Munir)
শুধু আমেরিকা নয়, সৌদি আরব, ইরান, বাংলাদেশ-সহ একাধিক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার চেষ্টাও করেছে ইসলামাবাদ। তবে সমালোচকদের দাবি, বিদেশে সাফল্যের প্রচারের আড়ালে পাকিস্তানের গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে।
কূটনৈতিক মঞ্চে পাকিস্তানের এই নতুন সক্রিয়তা কতটা স্থায়ী হবে, তা সময় বলবে। তবে আপাতত স্পষ্ট যে ওয়াশিংটনের নজরে ফের গুরুত্ব বাড়াতে সফল হয়েছে ইসলামাবাদ। (Donald Trump Asim Munir)

