পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সংঘাত এখন যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। এক দিকে আকাশপথে হামলার দাবি,অন্য দিকে পাল্টা ক্ষয়ক্ষতির হিসাব। এই পরিস্থিতির মাঝেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন,তিনি চাইলে হস্তক্ষেপ করতে পারেন, তবে আপাতত সে পথে যাচ্ছেন না। বরং পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের প্রশংসাই করেছেন ট্রাম্প। (Pakistan Afghanistan War)
ইসলামাবাদ ইতিমধ্যেই ‘খোলা যুদ্ধ’-এর কথা ঘোষণা করেছে। পাকিস্তানের দাবি,কাবুল ও কান্দাহার-সহ আফগানিস্তানের ভিতরে মোট ২৯টি জায়গায় আকাশপথে হামলা চালানো হয়েছে। সরকারি হিসাবে,ওই অভিযানে দুশো সাতানব্বই জন তালিবান ও জঙ্গি নিহত হয়েছে। যদিও আফগান তালিবান প্রশাসনের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেছেন। তাঁর কথায়, আফগান বাহিনীর পাল্টা আক্রমণে পঞ্চান্ন জন পাকিস্তানি সেনা নিহত এবং কয়েক জন আটক কা হয়েছে। ফলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে। (Pakistan Afghanistan War)
এই আবহে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন,পাকিস্তানে “দারুণ প্রধানমন্ত্রী” ও “দারুণ সেনাপ্রধান” রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও ফিল্ড মার্শাল আসিফ মুনিরের প্রশংসা করে তিনি জানান,তিনি তাঁদের অত্যন্ত সম্মান করেন এবং মনে করেন পাকিস্তান পরিস্থিতি যথেষ্ট দক্ষতার সঙ্গে সামলাচ্ছে। তাঁর এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট,ওয়াশিংটন আপাতত সরাসরি হস্তক্ষেপে আগ্রহী নয়। (Pakistan Afghanistan War)
শুক্রবারের হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ কড়া বার্তা দেন। তিনি বলেন,দেশের সশস্ত্র বাহিনী যে কোনও আগ্রাসন গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম এবং পুরো দেশ সেনাবাহিনীর পাশে রয়েছে। আফগানিস্তান থেকে ২ হাজার ২১ সালে আমেরিকা সেনা প্রত্যাহারের পর তালিবান ক্ষমতায় ফেরে। তারপর এই প্রথম এত বড় আকারে সামরিক অভিযানের দাবি সামনে এল। (Pakistan Afghanistan War)
আমেরিকার বিদেশ দফতরের তরফে জানানো হয়েছে,তালিবান হামলার বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার পাকিস্তানের রয়েছে এবং ওয়াশিংটন সেই অধিকারকে সমর্থন করে। একই সঙ্গে তালিবান সন্ত্রাস দমনের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। মার্কিন উপ-বিদেশ সচিব অ্যালিসন হুকার পাকিস্তানের বিদেশ সচিবের সঙ্গে কথা বলে নিহতদের জন্য সমবেদনা জানান এবং পরিস্থিতির উপর নজর রাখার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি পাকিস্তানে থাকা আমেরিকান নাগরিকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী দফতর,সামরিক স্থাপনা ও বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলিতে যাতায়াতে বিশেষ সাবধানতার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। (Pakistan Afghanistan War)
যদিও আন্তর্জাতিক মহলেও ইতিমধ্যেই নড়াচড়া শুরু হয়েছে—ব্রিটেন উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে, চিন যুদ্ধবিরতির পক্ষে মত দিয়েছে এবং ইরান মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। সব মিলিয়ে সীমান্তের এই সংঘাত এখন বৃহত্তর কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। (Pakistan Afghanistan War)

