Site icon Hindustan News Point

১১০ দিনের সংঘাতের পর শান্তির বার্তা, চুক্তিতে সই আমেরিকা-ইরানের

US-Iran Peace Deal

পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘদিনের অস্থিরতার অবসানের পথে বড় পদক্ষেপ। আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের মধ্যে বহুল আলোচিত শান্তি চুক্তিতে (US-Iran Peace Deal) সই সম্পন্ন হয়েছে। ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে এই (US-Iran Peace Deal) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। যদিও চুক্তির চূড়ান্ত বাস্তবায়ন এখনও বাকি, তবুও এই পদক্ষেপকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্য সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (প্রাক্তন টুইটার) জানান, ভার্সাইয়ে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে হওয়া (US-Iran Peace Deal) চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। তাঁর দাবি, এই চুক্তির ফলে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা হরমুজ প্রণালী আবার স্বাভাবিকভাবে খুলে দেওয়ার পথ প্রশস্ত হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইরানও। ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা IRNA-কে জানান, “ইসলামাবাদ মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং”-এর পাঠে দুই দেশের রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, (US-Iran Peace Deal) চুক্তির বাস্তবায়ন কতটা সফল হয়।

ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি, হরমুজ খুলে দেওয়ার ঘোষণা ট্রাম্পের

প্রসঙ্গত, এই আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর প্রথমে সুইৎজারল্যান্ডের জেনেভায় হওয়ার কথা ছিল। যদিও সেই বৈঠক এখনও নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে তেহরান।

(US-Iran Peace Deal) চুক্তির পূর্ণাঙ্গ রূপায়ণের জন্য আগামী ৬০ দিনের মধ্যে আমেরিকা ও ইরানকে চূড়ান্ত সমঝোতার শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা করতে হবে। আমেরিকান প্রশাসনের প্রকাশ করা নথি অনুযায়ী, “ইসলামাবাদ মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং” সামরিক সংঘাতের অবসান এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে তৈরি হয়েছে।

চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, আমেরিকা আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের উপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে। এর ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরে যেতে পারে। পাশাপাশি, চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের আশপাশ থেকে আমেরিকান সেনা মোতায়েনও প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

বদলে ইরান আগামী ৬০ দিনের জন্য কোনও অতিরিক্ত ফি ছাড়াই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলির নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ‘সর্বোচ্চ চেষ্টা’ করবে বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

এই (US-Iran Peace Deal) চুক্তির সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক প্রভাব পড়তে পারে জ্বালানি বাজারে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করে। গত কয়েক মাসে যুদ্ধের কারণে এই রুটে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছিল। চুক্তি কার্যকর হলে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে ভারত-সহ তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলির অর্থনীতিতে।

ভারতের ক্ষেত্রেও (US-Iran Peace Deal) এই চুক্তি তাৎপর্যপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরলে জ্বালানি আমদানির খরচ কমতে পারে। এর ফলে পরিবহণ, উৎপাদন এবং ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধির চাপ কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রুট নিরাপদ হলে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

চলছিল শেষকৃত্যের প্রস্তুতি, সেই সময়ে মিরাকল! ৬ দিন পর এভারেস্ট থেকে ফিরলেন দাওয়া শেরপা


Exit mobile version