পাকিস্তানের নিরাপত্তা নিয়ে বরাবরই প্রশ্ন রয়েছে। এ বার পাকিস্তানে ভ্রমণ নিয়ে দেশের নাগরিকদের জন্য সতর্কবার্তা জারি করল আমেরিকা (US Advisory Travel to Pakistan)। সম্প্রতি মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট তাদের ট্র্যাভেল অ্যাডভাইজরিতে পরিবর্তন এনেছে। সেখানে তারা পাকিস্তানে ভ্রমণের আগে নাগরিকদের ভালো করে চিন্তা করার পরামর্শ দিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এই নির্দেশকে কূটনৈতিক মহলে পাকিস্তানের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সরকারের জন্য এটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
২৬ জানুয়ারি প্রকাশিত এই আপডেটে পাকিস্তানে অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ, অপহরণ এবং নাগরিক অস্থিরতার ঝুঁকির কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট। বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিচার করে মার্কিন সরকার চারটি স্তরে ট্র্যাভেল অ্যাডভাইজরি প্রকাশ করে থাকে। সেখানে পাকিস্তানকে রাখা হয়েছে ‘লেভেল ৩’ বা উচ্চ ঝুঁকির তালিকায়। এই স্তরের দেশগুলিতে হঠাৎ করে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা থাকে বলে জানানো হয়েছে। সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য হিসেবে পরিবহণ কেন্দ্র, হোটেল, বাজার, শপিং মল, বিমানবন্দর, ট্রেন, স্কুল, হাসপাতাল, উপাসনালয় এবং সরকারি ভবনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারতের জন্য বরাদ্দ জমিতে অস্ত্র কারখানা, নেপথ্যে পাকিস্তান-চিন?
সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে। এই অঞ্চলের কিছু অংশকে মার্কিন সরকার ‘লেভেল ৪’ বা সর্বোচ্চ বিপজ্জনক ক্যাটিগরিতে ফেলেছে এবং নাগরিকদের সেখানে কোনও কারণেই না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ওই এলাকায় সরকারি কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষকে খুন ও অপহরণের ঘটনা প্রায়শই ঘটে। এই নির্দেশ পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
এছাড়া পাকিস্তানের স্থানীয় আইন অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ এবং সরকার বা সেনাবাহিনীকে সমালোচনা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করলেও আটক হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে— এমন সতর্কতাও দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।

