ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো (Venezuela President Maduro) ও তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও অস্ত্র চোরাচালানের বিস্ফোরক অভিযোগ নতুন নয়। তবে এ বার অভিযোগের তীব্রতা ও সময় নির্বাচন বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে মাদুরোকে আন্তর্জাতিক ড্রাগ নেটওয়ার্কের ‘কিংপিন’ বলে আখ্যা দেওয়ার পর বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।
Table of Contents
অভিযোগের পেছনের প্রেক্ষাপট কী?
আমেরিকার দাবি অনুযায়ী, মাদুরো দীর্ঘ দিন ধরে রাষ্ট্রক্ষমতার আড়ালে থেকে ভেনেজুয়েলাকে কোকেন পাচারের ট্রানজিট রুটে পরিণত করেছিলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, লাতিন আমেরিকার ড্রাগ কার্টেলগুলির সঙ্গে রাজনৈতিক শাসকদের যোগ নতুন নয়। তবে ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে অভিযোগ সরাসরি রাষ্ট্রের শীর্ষস্তরকে ঘিরে, যা বিষয়টিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে।
কেন পরিবার ও ঘনিষ্ঠরাও অভিযুক্ত?
এই মামলার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো—মাদুরোর স্ত্রী ও ছেলের নামও অভিযোগে উঠে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে দুটি বার্তা স্পষ্ট। প্রথমত, আমেরিকা দেখাতে চাইছে যে অভিযোগ শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং প্রমাণনির্ভর। দ্বিতীয়ত, মাদুরো প্রশাসনের উপর মনস্তাত্ত্বিক ও কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোই লক্ষ্য।
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এর প্রভাব কী?
এই অভিযোগ ভেনেজুয়েলার উপর থাকা নিষেধাজ্ঞাকে আরও কঠোর করতে পারে। ইতিমধ্যেই অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত দেশটির জন্য এটি বড় ধাক্কা। একই সঙ্গে, লাতিন আমেরিকায় আমেরিকার প্রভাব পুনরুদ্ধারের কৌশল হিসেবেও এই পদক্ষেপকে দেখছেন অনেকে।
মাদুরোর অবস্থান কোথায় দাঁড়াচ্ছে?
মাদুরো বরাবরই এই ধরনের অভিযোগকে ‘আমেরিকার রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে প্রশ্ন উঠছে—আন্তর্জাতিক মহলে যদি এই অভিযোগ আরও জোরালো হয়, তা হলে কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা আরও বাড়বে কি না।
সামনে কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ইস্যু শুধু ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নয়, বরং আন্তর্জাতিক মাদক নিয়ন্ত্রণ, ভূ-রাজনীতি এবং আমেরিকা–লাতিন আমেরিকা সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

