Site icon Hindustan News Point

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ থামাতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধেই রিপাবলিকানদের ভোট

Donald Trump

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট (Donald Trump) ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান নীতি নিয়ে এবার প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলল তাঁর নিজের দলেরই একাংশ। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাস হয়েছে, যেখানে ট্রাম্প প্রশাসনকে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই ভোটাভুটিতে চারজন রিপাবলিকান সাংসদ ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে (Donald Trump) ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় বিষয়টি আমেরিকার রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

বুধবার হাউসে ২১৫-২০৮ ভোটে ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজোলিউশন’ পাস হয়। এই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা না করলে বা সামরিক শক্তি ব্যবহারের অনুমোদন না দিলে প্রেসিডেন্টকে ইরান থেকে আমেরিকান সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।

প্রস্তাবটির অন্যতম সমর্থক ডেমোক্র্যাট সাংসদ গ্রেগরি মিকস বলেন, “আজকের ভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। ক্রমশ আরও বেশি রিপাবলিকান তাঁদের ভোটারদের কথা শুনছেন, যারা মধ্যপ্রাচ্যে আর একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চায় না।”

যদিও এই প্রস্তাবটি এখনও আইনে পরিণত হয়নি, তবুও এটিকে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কারণ রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত হাউসে অতীতে একই ধরনের তিনটি প্রস্তাব অল্প ব্যবধানে ব্যর্থ হয়েছিল। এবার চার রিপাবলিকান সদস্যের সমর্থন পরিস্থিতিকে বদলে দিয়েছে।

হরমুজ প্রণালীতে গোপনে বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে পথ দেখাচ্ছে আমেরিকা, ইরানের নজর এড়িয়ে কীভাবে সম্ভব হলো?

তবে বাস্তবে এই রেজোলিউশন কার্যকর করতে হলে সেনেটের অনুমোদনও প্রয়োজন। এরপরও প্রেসিডেন্ট হিসেবে (Donald Trump) ট্রাম্পের হাতে ভেটো ক্ষমতা রয়েছে, যার মাধ্যমে তিনি এই পদক্ষেপ আটকে দিতে পারেন। ফলে আপাতত এটি মূলত একটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

এদিকে (Donald Trump) ট্রাম্পকে ঘিরে রিপাবলিকান শিবিরের অস্বস্তি শুধু ইরান ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ নয়। একই দিনে হাউস একটি প্রক্রিয়াগত প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে, যার ফলে ইউক্রেনকে নিরাপত্তা সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে আনা ‘ইউক্রেন সাপোর্ট অ্যাক্ট’-এর ওপর ভোটের পথ প্রশস্ত হয়েছে। ওই পদক্ষেপেও কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্য দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে সমর্থন জানান।

এছাড়া ট্রাম্পের (Donald Trump) প্রস্তাবিত ‘ওয়েপনাইজেশন ফান্ড’ নিয়েও রিপাবলিকানদের একাংশ আপত্তি তুলেছে। সমালোচনার মুখে পড়েছে জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ বিল পুল্টকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তও। জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও তাঁকে ওই পদে বসানোর উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ডেমোক্র্যাটদের দাবি, আমেরিকার সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে, প্রেসিডেন্টের নয়। তাঁদের অভিযোগ, ট্রাম্প স্পষ্ট কৌশল ছাড়াই দেশকে একটি দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়েছেন। পাশাপাশি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানি, খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়টিও সামনে আনছেন বিরোধীরা।

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ইরানের সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ঠেকানো আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি। রিপাবলিকানদের একাংশও মনে করছে, ডেমোক্র্যাটরা রাজনৈতিক সুবিধা নিতে এই প্রস্তাব এনেছে এবং এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের অবস্থান দুর্বল করার চেষ্টা করছে।

তবে হাউসের সাম্প্রতিক ভোট স্পষ্ট করে দিয়েছে, ইরান যুদ্ধ ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এখন আর শুধু ডেমোক্র্যাটরাই নয়, (Donald Trump) তাঁর নিজের দলের মধ্যেও মতভেদ ক্রমশ বাড়ছে। আগামী দিনে সেনেট ও হোয়াইট হাউসে এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে আন্তর্জাতিক মহলের।

পশ্চিম এশিয়ায় ফের যুদ্ধের দামামা, কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলার পাল্টা জবাব ইরানের


Exit mobile version