আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রতিদিন নতুন নতুন শিরোনামের জন্ম দিচ্ছে (US Iran Conflict)। এটা ক্রমশ বিশ্বের কাছে বিপজ্জনক পর্যায়ে যাচ্ছে। দু’দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রকাশ্য হুমকি-হুঁশিয়ারিতে আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে ফের ভেসে উঠছে যুদ্ধের আশঙ্কা। এই উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়োতোল্লা খামেনি।
সম্প্রতি একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন, যদি ইরান কখনও তাঁকে হত্যা করার চেষ্টা করে, তবে আমেরিকা “পৃথিবীর মানচিত্র থেকে ইরানকে মুছে দেবে”। তাঁর দাবি, তিনি উপদেষ্টাদের নির্দেশ দিয়েছেন, কোনও ঘটনায় ইরানের জড়িত থাকার প্রমাণ মিললেই দেশটিকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হবে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যে আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দা শুরু হয়েছে।
গাজায় শান্তি ফেরাতে উদ্যোগী ট্রাম্প, আমন্ত্রণ ভারত-পাকিস্তানকে
ইরানও চুপ করে বসে নেই। আমেরিকার এই মন্তব্যের জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র জেনারেল আবুলফজল শেকারচি বলেন, “যদি আমাদের নেতার দিকে কেউ হাত বাড়ায়, আমরা শুধু সেই হাত কেটে ফেলব না, বরং তাদের গোটা দুনিয়াতেই আগুন জ্বালিয়ে দেব।” ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, খামেনেইয়ের প্রতি যে কোনও আঘাত মানেই সমগ্র জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা।
এই হুমকি-পাল্টা হুমকির পটভূমিতে ইরানের ভিতরে চলছে গভীর রাজনৈতিক অস্থিরতা। গত ডিসেম্বর থেকে খামেনেই-বিরোধী গণবিক্ষোভে দেশজুড়ে উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, দমন-পীড়নে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। কোনও কোনও সূত্রে মৃতের সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা। এই আন্দোলনের পিছনে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের মদত রয়েছে— এমন অভিযোগ তুলে আগেই তেহরান ওয়াশিংটনকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক ভাষা কেবল নির্বাচনী রাজনীতির অংশ নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে শক্তি প্রদর্শনের কৌশল। অন্যদিকে, ইরানের নেতৃত্বও অভ্যন্তরীণ সংকট থেকে নজর ঘোরাতে বাইরের শত্রুকে সামনে আনছে।
দুই পরমাণু-সংবেদনশীল দেশের এই কথার লড়াই যদি কাজে রূপ নেয়, তবে তার অভিঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, গোটা বিশ্বের নিরাপত্তাকেই ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে— সেই আশঙ্কাই এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতির সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা।

