Site icon Hindustan News Point

US-Iran conflict: মার্কিন-ইরান সংঘাতে অস্থির বিশ্ব তেলের বাজার, ব্যারেল প্রতি দাম ১০০ ডলার অতিক্রম

US-Iran conflict

ইরান-মার্কিন সংঘাতে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের গণ্ডি পেরিয়েছে । (US-Iran conflict)
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলার জন্য এটি একটি অস্থায়ী মূল্য মাত্র। সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল -এ তিনি লেখেন, ইরানের পারমাণবিক হুমকি নির্মূল হলে তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে এবং বিশ্বে নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল রুট হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে রয়েছে। এই জলপথ দিয়েই বিশ্বে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় একটা অংশ পরিবহন হয়। সংঘাতের কারণে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু বড় উৎপাদক দেশ তেল উৎপাদন কমাতে শুরু করেছে। (US-Iran conflict)

যার জেরে প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। মার্কিন মানদণ্ডের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমেডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ২০.৭৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৯.৭৫ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দামও ১৮ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রায় ১০৯.৪৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৮০ সালের পর তেলের ফিউচার ট্রেডিংয়ে এটি অন্যতম বড় সাপ্তাহিক বৃদ্ধি।

সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতেও। বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার আশঙ্কায় বহু ট্যাঙ্কার ওই অঞ্চল এড়িয়ে চলায় তেল সরবরাহের গতি মন্থর হয়ে পড়েছে। উপসাগরীয় উৎপাদকদের অনেকেই উৎপাদন কমাচ্ছেন। কোথাও কোথাও তেলের কূপ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

আর্থিক বাজারেও তার ধাক্কা স্পষ্ট। এশিয়ার শেয়ার বাজারে লেনদেন শুরু হতেই বড় ধস দেখা যায়। জাপানের প্রধান সূচক প্রায় পাঁচ শতাংশ পড়ে যায়, দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে পতন সাত শতাংশেরও বেশি। কারণ এই দুই অর্থনীতি আমদানিকৃত তেল ও গ্যাসের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। (US-Iran conflict)

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। বাজার অবস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, বছরের শেষ নাগাদ অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৪৩ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

এই উত্তেজনার প্রভাব পড়ছে বিশ্ব বাণিজ্য রুটেও। পারস্য উপসাগর এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ধীর হয়ে গেছে। যার ফলে এশিয়া, ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে বাণিজ্য করিডোরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, আমেরিকার তুলনায় এশিয়া ও ইউরোপ এই সংকটে বেশি অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়তে পারে। কারণ ওই দুই অঞ্চলই পারস্য উপসাগরীয় জ্বালানি আমদানির উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের বড় অভ্যন্তরীণ তেল উৎপাদন এবং ক্রমবর্ধমান জ্বালানি রফতানির কারণে কিছুটা সুরক্ষা রয়েছে।

বিশ্ববাজারে তেলের উচ্চমূল্য সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে। জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি পায় এবং তার প্রভাব পড়ে খাদ্যসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও।


Exit mobile version