Site icon Hindustan News Point

ইরানে জলসংকট! আমেরিকান বাহিনীর হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ২ জলাধার, বিপাকে ২০ হাজার পরিবার

US-Iran Conflict

ইরান-আমেরিকা সংঘাত (US-Iran Conflict) আরও তীব্র আকার নিল। ওমান উপকূলের কাছে মার্কিন সেনার অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার জেরে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে একাধিক হামলা আমেরিকান সেনার। সেই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দক্ষিণ ইরানের সিরিক শহরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ পানীয় জলাধার। কয়েক ঘণ্টার জন্য নিরাপদ পানীয় জল থেকে বঞ্চিত হন প্রায় ২০ হাজার পরিবারের বাসিন্দারা। প্রবল গরমের মধ্যের পরিস্থিতি স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য চরম সংকট তৈরি করে। ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সিরিকে ক্ষতিগ্রস্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ জলাধার

ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম IRIB এর দাবি, বুধবার গভীর রাতে দক্ষিণ ইরানের সিরিক, জাস্ক এবং হরমুজ প্রণালীর কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলা চালানো হয়। (US-Iran Conflict) ওই হামলায় হরমোজগান প্রদেশের সিরিক শহরের বেমানি এলাকায় থাকা দুটি পানীয় জলাধার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত জলাধারগুলির মধ্যে একটি ৫০০ ঘনমিটার এবং অন্যটি ২,০০০ ঘনমিটার ধারণক্ষমতার। স্থানীয় জল সরবরাহ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই দুটি জলাধার থেকেই প্রায় ২০ হাজার বাড়িতে পানীয় জল সরবরাহ করা হতো।

৫০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় চরম ভোগান্তি

স্থানীয় স্থানীয় জল সরবরাহ সংস্থার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার পর বহু মানুষ বিশুদ্ধ পানীয় জল পাচ্ছেন না। এই ঘটনা এমন সময় ঘটেছে, যখন এলাকায় তাপমাত্রা ৪৫ থেকে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনকে স্থানীয় জল সংস্থার আধিকারিকরা জানান, “এই হামলার ফলে প্রায় ২০ হাজার বাসিন্দা নিরাপদ পানীয় জলের সুবিধা হারিয়েছেন। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন ও সংকটজনক হয়ে উঠেছে।”

তাঁদের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত জলাধারের বিকল্প হিসেবে পর্যাপ্ত ভূগর্ভস্থ জলের উৎসও ওই এলাকায় নেই। ফলে জল সরবরাহ ব্যবস্থার উপর বড়সড় চাপ তৈরি হয়। তবে পরে IRIB জানায়, জরুরি ভিত্তিতে মেরামতির কাজ চালিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়েছে এবং জল সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

আরও পড়ুন: হরমুজে নজিরবিহীন উদ্ধার অভিযান, নেপথ্যে ভারতীয় বংশোদ্ভূত

উদ্বেগ প্রকাশ WHO-র

(US-Iran Conflict) ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক অধিকর্তা হানান বালখি বলেছেন, নিরাপদ পানীয় জলের অভাব জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি তৈরি করতে পারে। তাঁর মতে, অত্যধিক গরমের মধ্যে পানীয় জল না থাকলে ডিহাইড্রেশন, হিটস্ট্রোক এবং জলবাহিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী মহিলা এবং দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভোগা মানুষেরা বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়েন।

তিনি আরও বলেন, পানীয় জলের পরিকাঠামো মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইন অনুযায়ী পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য অসামরিক পরিকাঠামো বিশেষ সুরক্ষার আওতায় পড়ে। এগুলিকে সব পরিস্থিতিতেই রক্ষা করা উচিত।

হামলার সাফাই আমেরিকার

অন্যদিকে, আমেরিকান সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, ওমান উপকূলের কাছে একটি মার্কিন আর্মি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার ঘটনার জবাব হিসেবেই ‘আত্মরক্ষার স্বার্থে’ এই হামলা চালানো হয়েছে। (US-Iran Conflict)

(US-Iran Conflict) সেন্টকমের দাবি, হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, নজরদারি রাডার এবং কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল কেন্দ্রগুলিকে লক্ষ্য করে বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর যুদ্ধবিমান থেকে ‘প্রিসিশন মিউনিশন’ ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ও আমেরিকান বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে আমেরিকান বাহিনীর হামলায় জলাধারগুলিকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কারণ আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অসামরিক পরিকাঠামোর উপর পরিকল্পিত হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

নতুন করে হামলা, বাড়ছে উত্তেজনা


(US-Iran Conflict) এরই মধ্যে বুধবার রাতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা শুরু করেছে আমেরিকান বাহিনী। সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানের সামরিক নজরদারি ব্যবস্থা, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং বিমান প্রতিরক্ষা ঘাঁটিগুলিতে আরও এক দফা ‘আত্মরক্ষামূলক’ অভিযান চালানো হয়েছে।

এদিকে তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, স্ট্রেট অব হরমুজ দিয়ে যাতায়াতকারী যে কোনও জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। (US-Iran Conflict) আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও অভিযোগ করেছেন, ইরানের আলোচকরা ইচ্ছাকৃতভাবে সময় নষ্ট করছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বোকা বানানোর’ চেষ্টা করছেন।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে এই সংঘাতের সূচনা হয়। তার পাল্টা জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকান ঘাঁটি এবং ইজরায়েলের বিভিন্ন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ৮ এপ্রিল শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: পেট্রোলে আবগারি শুল্কে বড় ছাড় কেন্দ্রের, এবার কি কমবে জ্বালানির দাম?


Exit mobile version