মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ সংঘাতের পর কূটনৈতিক মঞ্চে বড় অগ্রগতি। (US-Iran Peace Talks) যুদ্ধবিরতির প্রাথমিক চুক্তি সইয়ের কয়েক দিনের মধ্যেই সুইজারল্যান্ডে সরাসরি আলোচনায় বসেছে আমেরিকা ও ইরান। পারমাণবিক কর্মসূচি, লেবানন সংঘাত, হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার— একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছনোর লক্ষ্য নিয়েই শুরু হয়েছে এই বৈঠক।
সুইজারল্যান্ডে শান্তি আলোচনার সূচনা
গত সপ্তাহে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরের পর রবিবার সুইজারল্যান্ডের বিলাসবহুল রিসর্ট শহর বুর্গেনস্টকে সরাসরি (US-Iran Peace Talks) আলোচনায় বসেন আমেরিকান ও ইরানি প্রতিনিধিরা। উভয় পক্ষের লক্ষ্য, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত করা।
চুক্তির আওতায় শুধু ইরান-আমেরিকা সংঘাত নয়, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ফ্রন্টে চলা লড়াই বন্ধ করার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশেষ করে লেবাননে ইজরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হেজবুল্লার সংঘর্ষ থামানো নিয়ে জোর দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্পের কড়া বার্তা
(US-Iran Peace Talks) আলোচনা শুরু হওয়ার পরই আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে ইরানকে কড়া সতর্কবার্তা দেন। তিনি দাবি করেন, লেবাননে সক্রিয় ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলিকে অবিলম্বে হামলা বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় ওয়াশিংটন ফের কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এর আগে আমেরিকান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, ওয়াশিংটনের প্রধান লক্ষ্য পারমাণবিক কর্মসূচি এবং লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে বাস্তবসম্মত অগ্রগতি অর্জন করা। তাঁর কথায়, যদি ইরান আঞ্চলিক অস্থিরতা ছড়ানোর নীতি এবং পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সম্ভাব্য পরিকল্পনা থেকে সরে আসে, তাহলে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে পারে।
তবে ইরান বরাবরই দাবি করে এসেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত।
প্রশংসা না খোঁচা? নেতানিয়াহুকে নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য ঘিরে জল্পনা
(US-Iran Peace Talks) ইরানের শর্ত কী?
ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র এসমাইল বাঘায়ি জানিয়েছেন, চূড়ান্ত চুক্তির আগে বর্তমান প্রতিশ্রুতিগুলির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ হওয়া এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত কঠোরভাবে মেনে চলার বিষয়টি তেহরানের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তাঁর মতে, বর্তমান বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ইতিমধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতার বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করা।
কারা অংশ নিচ্ছেন আলোচনায়?
(US-Iran Peace Talks) মার্কিন প্রতিনিধিদলে রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।
অন্যদিকে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় রয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও বৈঠকে যোগ দিয়েছেন। এর আগেও পাকিস্তান আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একাধিক আলোচনার ব্যবস্থা করেছিল।
VIDEO | During the quadrilateral meeting with Pakistan, Qatar, and Iran in Bürgenstock, Switzerland, US Vice President JD Vance (@JDVance) says:
— Press Trust of India (@PTI_News) June 21, 2026
"First of all, I have some notes of appreciation. First of all, I want to thank the president of the United States who sends his best… pic.twitter.com/hadZniAT8x
হরমুজ প্রণালী নিয়ে জটিলতা
প্রাথমিক চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া। বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহণের প্রায় ২০ শতাংশ এই সামুদ্রিক পথ দিয়ে হয়। ফলে এর কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যায় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চাপ সৃষ্টি হয়।
চুক্তি অনুযায়ী ইরানের ওপর থেকে সামরিক অবরোধ শিথিল করার প্রতিশ্রুতি দেয় আমেরিকা। পাশাপাশি ইরানের পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বৃহৎ পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করা হয়। এছাড়া তেহরানের বিরুদ্ধে আরোপিত বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।
তবে ইরান শনিবার হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার ঘোষণা দিলেও সামুদ্রিক ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী বেশ কিছু জাহাজ এখনও ওই পথ ব্যবহার করছে। যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে, সব জাহাজের গতিবিধি ট্র্যাকিং সিস্টেমে ধরা পড়ে না।
চলছে পরীক্ষা, নিজের সূচি ভেঙে বিমানবন্দরেই অপেক্ষা, মন জিতলেন প্রধানমন্ত্রী
লেবাননে সংঘর্ষ অব্যাহত
যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও লেবাননে ইজরায়েল ও হেজবুল্লার মধ্যে সংঘর্ষ পুরোপুরি থামেনি। চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে ইজরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৬৭ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে হেজবুল্লার হামলায় পাঁচ ইজরায়েলি সেনার মৃত্যু হয়েছে।
ইরান অভিযোগ করেছে, যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করছে ইজরায়েল ও আমেরিকা। যদিও ইজরায়েল দাবি করেছে, হেজবুল্লার বিরুদ্ধে তাদের অভিযান ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অংশ নয় এবং দক্ষিণ লেবাননে তাদের সামরিক উপস্থিতি বজায় থাকবে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চের শুরু থেকে দেশটিতে সংঘর্ষে ৪,০৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে লেবাননে অন্তত ৩৪ জন ইজরায়েলি সেনা এবং উত্তর ইজরায়েলে চার সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠক?
এই বৈঠক (US-Iran Peace Talks) শুধু আমেরিকা ও ইরানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রক্সি যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ— সবকিছুর ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে এই আলোচনার সাফল্যের উপর। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে যদি চূড়ান্ত চুক্তি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে বহু বছরের সংঘাতের অবসানের পথে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে এই বৈঠককে দেখা হবে।
বাংলার ক্রিকেটকে ছড়িয়ে দেওয়ার ডাক, জেলার প্রতিভাদের সুযোগ বাড়ানোর বার্তা ক্রীড়ামন্ত্রীর

