Site icon Hindustan News Point

পশ্চিম এশিয়ায় ফের যুদ্ধের দামামা, কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলার পাল্টা জবাব ইরানের

US Iran War

পশ্চিম এশিয়ায় ফের যুদ্ধের আঁচ। যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরানে হামলা চালালো আমেরিকা। পাল্টা জবাব তেহেরানেরও। সম্প্রতি মার্কিন সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, ইরানের কেশম (Qeshm) দ্বীপে ‘আত্মরক্ষামূলক’ হামলা চালিয়েছে তারা। অন্যদিকে, ওই হামলার জবাবে কুয়েত এবং বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানও। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এর তরফে বুধবার জানানো হয়েছে, ইরানের তাদের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। তাদের দাবি, ইরানও প্রতিবেশী দেশগুলির দিকে বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল, কিন্তু কোনওটিই নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানতে পারেনি।

সেন্টকমের বিবৃতি অনুযায়ী, কুয়েতের দিকে ছোড়া দুটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই ভেঙে পড়ে এবং লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। অন্যদিকে বাহরাইনের উদ্দেশে নিক্ষিপ্ত তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্র এবং বাহরাইনের যৌথ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সঙ্গে সঙ্গেই ধ্বংস করে দেয়। কুয়েতের সেনাবাহিনীও জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ‘শত্রু’ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে তারা। (US Iran War)

শুধু ক্ষেপণাস্ত্র নয়, আন্তর্জাতিক জলসীমা দিয়ে চলাচলকারী অসামরিক জাহাজগুলিকে লক্ষ্য করে ইরান তিনটি আক্রমণাত্মক ড্রোন পাঠিয়েছিল বলেও দাবি করেছে মার্কিন বাহিনী। সেই ড্রোনগুলিও লক্ষ্যে পৌঁছানোর আগেই ধ্বংস করা হয়েছে বলে।

তবে হঠাৎ কেন উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে কেশম দ্বীপ ? হরমুজ প্রণালীতে অবস্থিত এই দ্বীপ কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল এবং গ্যাস পরিবহণের অন্যতম প্রধান নৌপথ এই প্রণালী। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে আমেরিকা এবং ইজরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই তেহরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের উপর কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। এর জন্য ইতিমধ্যে বিশ্বের জ্বালানি বাজারে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। তাই এবার ইরানের এই গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপকেই টার্গেট করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ফের ইউক্রেনে ব্যাপক হামলা রাশিয়ার, নিহত ২২, আহত শতাধিক

তবে এই হামলার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে তেহরান। ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ-তে প্রকাশিত বিবৃতিতে রেভলিউশনারি গার্ডস জানিয়েছে, আমেরিকাই প্রথমে কেশম দ্বীপে হামলা চালায়। তার জবাব হিসেবেই কুয়েত এবং বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। (US Iran War)

ইরানের তরফে আরও বলা হয়েছে, বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতর এবং অঞ্চলের একটি বিমানঘাঁটিতে তারা সফল আঘাত হেনেছে। তবে সেই দাবি সরাসরি খারিজ করেছে সেন্টকম। এক্স পোস্টে মার্কিন বাহিনী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, ইরানের এই দাবি “FALSE” অর্থাৎ মিথ্যা। তাদের বক্তব্য, “আমেরিকার বাহিনীর বিরুদ্ধে ইরানের সমস্ত হামলাই নাকি ব্যর্থ হয়েছে।”

প্রসঙ্গত, গত ৮ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। কিন্তু স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে আলোচনা চলছে, তা এখনও কোনও চূড়ান্ত ফলে পৌঁছাতে পারেনি। এই আবহে সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় সেই আলোচনার ভবিষ্যৎ যে ঠিক কী হতে চলেছে তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

একদিকে যুদ্ধবিরতি অন্যদিকে দুই দেশের মধ্যে চলতে থাকা সংঘাত। সব মিলিয়ে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি ফের নতুন করে অস্বস্তি বাড়াচ্ছে। ইতিমধ্যে দীর্ঘদিনের যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য বিশ্ব বাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড়সড় প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। দেশে লাফিয়ে বাড়ছে পেট্রোল ডিজেলের দাম। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ালে ভবিষ্যতে তার ফল যে খুব একটা ভালো হবে না তা বলাই বাহুল্য। (US Iran War)


Exit mobile version