আমেরিকা ও ইরানের (Us Iran War) মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের মধ্যস্থতা করেছিল পাকিস্তান। তবে পাকিস্তানের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হল। যুদ্ধ বিরতির জন্য ইসলামাবাদে গিয়ে আমেরিকার সঙ্গে কোনও আলোচনায় বসতে নারাজ ইরান। পাশাপাশি অমেরিকার দেওয়া শর্তগুলি গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করছে ইরান।
ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল বলা হয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে আঞ্চলিক মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা স্থগিত হয়েছে। পাকিস্তানের প্রচেষ্টা কোনও ফল হয়নি। ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে, তারা ইসলামাবাদে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার জন্য কোনও প্রতিনিধি পাঠাবে না।
এ হেন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের পরিবর্তে কাতার ও তুরস্ক মধ্যস্থতার নতুন ভূমিকা নিতে পারে বলে কূটনীতিকরা মনে করছেন। তারা আশা করছেন, এ দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার বিষয়ে উদ্যোগী হতে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস জানিয়েছে, ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালী খোলা নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। আরও জানানো হয়েছে, সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির বিষয়ে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মহম্মদ বিন সালমান বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
এরপরই ট্রাম্প সামাজমাধ্যমে দাবি করেন, “ইরানের প্রেসিডেন্ট যুদ্ধবিরতির (Us Iran War) অনুরোধ করেছেন। তবে হরমুজ প্রণালী না খোলা পর্যন্ত তারা কোনো যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করবেন না”।
এই দাবিকে মিথ্যে ও ভিত্তিহীন বলে ব্যাখ্যা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। তিনি বলেছেন, “ইরান কখনওই এমন কোনও অনুরোধ করেনি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব বাস্তবসম্মত নয়”।
গত শুক্রবার ইরানের তরফে বলা হয়েছিল, “যুক্তরাষ্ট্র তাদের ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু ইরান কোনও সাড়া দেয়নি”। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতি অগ্রসর করা বা মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়া এই অঞ্চলের রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে ইরান ও আমেরিকার যুদ্ধ বিরতির মধ্যস্থতায় পাকিস্তান ব্যর্থ হওয়ায় কূটনৈতিক চাপ নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। অনেকেই মনে করছেন, পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। তবে হরমুজ প্রণালী খোলা না হলে এই যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন কঠিন হবে।
উল্লেখযোগ্য, যুদ্ধবিরতি ও মধ্যস্থতা ব্যর্থ হওয়ায় সামরিক উত্তেজনা, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং পশ্চিম এশিয়া জুড়ে আর্থসামাজিক প্রভাব আরও বাড়বে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে বিভিন্ন দেশ পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে।
মোটকথা, পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ব্যর্থ হওয়ার ফলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা বাড়ছে, হরমুজ প্রণালীতে চলাচলের নিরাপত্তা ও যুদ্ধবিরতি নিয়ে অস্থিরতা আরও বাড়ল।

