Site icon Hindustan News Point

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা, হরমুজ প্রণালী নিয়ে বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা

US Sanctions

পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা আরও তীব্র করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। (US Sanctions) ইরানের সামরিক তেল বাণিজ্য নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ফের একদফা কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করল ওয়াশিংটন। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে সম্ভাব্য টোল ব্যবস্থা নিয়ে ওমানকেও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক তেল বাজার ও পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট জানায়, ইরানি অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পাচারে জড়িত অন্তত আটটি জাহাজের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। নিষিদ্ধ তালিকায় রয়েছে মার্শাল আইল্যান্ডস পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার ‘Flora’, কোমোরোসের ‘Hauncayo’ এবং পানামার ‘III Gap’-সহ একাধিক জাহাজ।

(US Sanctions) মার্কিন ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট দাবি করেছেন, ইরান এই তেল বাণিজ্যের আয় ব্যবহার করছে তাদের সামরিক শক্তি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে। তাঁর কথায়, “ইরানকে আমরা কোনওভাবেই তেলের আয় বাড়িয়ে সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের সুযোগ দেব না।”

আরও পড়ুন: বিস্ফোরণে কাঁপল কেপ ক্যানাভেরাল, ভস্মীভূত ব্লু অরিজিনের ‘নিউ গ্লেন’ রকেট

মার্কিন বিদেশ দফতর এই অভিযানকে ‘Economic Fury’ অভিযানের অংশ বলে উল্লেখ করেছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ইরান তথাকথিত ‘ডার্ক ফ্লিট’-এর মাধ্যমে গোপনে তেল রফতানি চালিয়ে যাচ্ছে। এই জাহাজগুলি সমুদ্রপথে চলাচলের সময় ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে অবস্থান গোপন করে বলে দাবি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের।

(US Sanctions) শুধু জাহাজ নয়, হংকং, দুবাই, সিঙ্গাপুর-সহ বিভিন্ন দেশের ১৫ টিরও বেশি সংস্থা ও জাহাজ পরিচালনাকারি কোম্পানির বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। অভিযোগ, এই সংস্থাগুলি জটিল শিপিং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কোটি কোটি ব্যারেল ইরানি তেল পাচারে সাহায্য করেছে।

এদিকে এই পদক্ষেপের কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে তেহরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, এই নিষেধাজ্ঞা (US Sanctions) তাদের দুর্বল করতে পারবে না। পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে হামলা চালানো অব্যাহত থাকবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, যতক্ষণ না তাদের শর্ত মানা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালী ইস্যু। বিশ্বের প্রায় এক পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই প্রণালী দিয়ে পরিবহণ হয়। ফলে এখানে কোনও অস্থিরতা তৈরি হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ব অর্থনীতিতে।

আরও পড়ুন: নির্মীয়মাণ সেতু ভেঙে দুর্ঘটনা উত্তরপ্রদেশে, মৃত ৬ শ্রমিক, আহত ৩

এরই মধ্যে ওমান যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া বাণিজ্যিক জাহাজের উপর টোল ব্যবস্থা চালু করতে সাহায্য করে, তবে তার বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, “হরমুজে টোল ব্যবস্থা চালু বা তা সমর্থনকারী যে কোনও পক্ষের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পরিস্থিতি আরও নাটকীয় করে তুলেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য। ওমানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “ওমানকে অন্যদের মতো আচরণ করতে হবে, না হলে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে ইরানের উপর অর্থনৈতিক চাপ, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা— দুইয়ের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা ক্রমশ বাড়ছে। এর প্রভাব আন্তর্জাতিক তেল বাজারে বড়সড় অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। (US Sanctions)

আরও পড়ুন: ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দিলেই ‘হত্যা’, পাক সেনাপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রীকে হুঁশিয়ারি লস্কর নেতার


Exit mobile version