পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও বিস্ফোরক মোড় নিতে পারে—এমনই ইঙ্গিত দিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu)। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস-এর জনপ্রিয় অনুষ্ঠান 60 Minutes-এ দেওয়া এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে (Benjamin Netanyahu) নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়েছেন, আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ অভিযানের ফলে ইরানের শাসকগোষ্ঠীর পতন “সম্ভব”, যদিও তা “নিশ্চিত নয়”।
নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন শুরু হয়েছে। কারণ, প্রথমবার কোনও বড় পশ্চিমি মিত্র দেশের শীর্ষ নেতা প্রকাশ্যে ইরানের সরকার ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা নিয়ে এত স্পষ্ট বার্তা দিলেন।
সাক্ষাৎকারে নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর একটি রিপোর্ট নিয়ে নেতানিয়াহুকে (Benjamin Netanyahu) প্রশ্ন করা হয়েছিল , যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে ফেব্রুয়ারিতে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বলেছিলেন—যৌথ সামরিক অভিযান ইরানের ইসলামিক রিপাবলিককে ধ্বংস করে দিতে পারে। যদিও নেতানিয়াহু রিপোর্টটিকে “ভুল” বলে দাবি করেন, তবুও তিনি বলেন, “এটা অসম্ভব নয়।” তিনি বলেন,“ইরানের এই শাসনব্যবস্থা যদি দুর্বল হয় বা ভেঙে পড়ে, তাহলে হিজবুল্লাহ, হামাস এবং হুথিরাও শেষ হয়ে যাবে।”
(Benjamin Netanyahu) নেতানিয়াহুর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানই এই সমস্ত জঙ্গি গোষ্ঠীর মূল “ভিত্তি” বা “স্ক্যাফোল্ডিং”, যারা মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা ছড়াচ্ছে। ফলে তেহরানের শক্তি কমলে গোটা অঞ্চলের সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়তে পারে বলেই তাঁর দাবি। তবে একইসঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন যে ইরানের সরকার পতনের ভবিষ্যদ্বাণী করা সহজ নয়। তাঁর কথায়, “দেউলিয়া হওয়ার মতোই বিষয়টা ধীরে ধীরে এগোয়, তারপর হঠাৎ ভেঙে পড়ে।” এই মন্তব্যের রাজনৈতিক গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইজরায়েল এখন শুধুমাত্র সামরিক জবাবেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোকেও চাপে ফেলতে চাইছে। এর ফলে পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে বড় সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু আরও জানান, আগামী এক দশকের মধ্যে ইজরায়েলকে মার্কিন সামরিক সাহায্যের ওপর নির্ভরতা কমাতে চান তিনি। অর্থাৎ ভবিষ্যতে আরও স্বাধীন সামরিক শক্তি হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে চাইছে তেল আভিভ।
এছাড়াও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও কড়া বার্তা দেন তিনি (Benjamin Netanyahu)। নেতানিয়াহুর দাবি, এখনও ইরানের কাছে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে এবং বেশ কিছু পরমাণু কেন্দ্র সক্রিয় অবস্থায় আছে। তাঁর কথায়,“ওই ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিতে হবে। প্রয়োজনে ভিতরে গিয়ে সেটা নিয়ে আসতে হবে।”
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও জানিয়েছেন, আমেরিকা ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ওপর কড়া নজর রাখছে এবং প্রয়োজনে ব্যবস্থা নিতেও প্রস্তুত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নেতানিয়াহুর (Benjamin Netanyahu) এই মন্তব্য শুধু ইরান নয়, গোটা পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনীতিকে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। কারণ ইরান, ইজরায়েল ও আমেরিকার সংঘাত যদি আরও বাড়ে, তবে তার প্রভাব পড়তে পারে তেলের বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তার ওপরও।
‘টোটালি আনঅ্যাকসেপ্টেবল’! ইরানের শান্তি প্রস্তাব ওড়ালেন ট্রাম্প, ফের যুদ্ধের তীব্র আশঙ্কা: Benjamin Netanyahu: ইরান সরকার পতনের হুঁশিয়ারি নেতানিয়াহুর! ,বাড়ছে যুদ্ধ আশঙ্কা











