বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) আকাশছোঁয়া দাম এবং পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির মাঝে ভারতীয় অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষায় এক অভিনব ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একদিকে যেমন করোনা কালের কথা স্মরণ করিয়ে আমজনতাকে বাড়ি থেকে কাজ (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) করার পরামর্শ দিয়েছেন। অন্যদিকে, বিদেশযাত্রা কিংবা বিদেশে গিয়ে বিয়ের পরিকল্পনাও আপাতত কাটছাঁট করার আর্জি জানিয়েছেন মোদী।
একই সঙ্গে পেট্রোল-ডিজেলের ব্যবহার কমানোর আর্জি জানিয়েছেন। ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করে গণপরিবহণ বা মেট্রো ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু কেন জানেন?
২০২৫-২৬ সালে ভারত ১৯.৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ভোজ্য তেল আমদানি করেছে। দেশের কোটি কোটি রান্নাঘরে প্রতিদিন ব্যবহৃত এই একটি দ্রব্যের জন্য বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার খরচ হয়। বিপুল পরিমাণ এই আমদানি খরচ হ্রাস করা গেলে তা অর্থনীতির ঘাটতি কমাতে সাহায্য করবে। আর ঘাটতি কমলে টাকার উপর চাপও কমবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভোজ্য তেলের আমদানিতে আমাদের প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়। যদি সমস্ত পরিবার ভোজ্য তেলের ব্যবহার কমিয়ে আনে, তাহলে তা দেশপ্রেমের প্রতি এক বিরাট অবদান হবে। এর ফলে দেশের কোষাগারের উপর যেমন চাপ কমবে, তেমনই দেশবাসীর স্বাস্থ্যেরও উন্নতি ঘটবে।”
জ্বালানির দাম তাৎক্ষণিকভাবে না বাড়ালেও, প্রধানমন্ত্রী মোদী বারবার পেট্রোল ও ডিজেলের ব্যবহার কমানোর এবং বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “সারা বিশ্বে পেট্রোল-ডিজেল এত ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। পেট্রোল-ডিজেলের ব্যবহার কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচানো আমাদের সকলের দায়িত্ব।”
প্রধানমন্ত্রীর এই আবেদনের সময়কাল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত ইতিমধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে, সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি করেছে, এবং উদীয়মান বাজারগুলোর মুদ্রাগুলোকে দুর্বল করে দিয়েছে।
ভারতের তেল আমদানি ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার মধ্যেই সম্প্রতি টাকার বিপরীতে ডলারের মান রেকর্ড সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে। যদি তেলের দাম চড়া থাকে এবং সোনার আমদানিও তীব্রভাবে বাড়ে, তাহলে টাকা এবং মুদ্রাস্ফীতির ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।










