দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা NEET-UG ২০২৬ শেষ পর্যন্ত বাতিল করতেই বাধ্য হল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)। রাজস্থানে ‘গেস পেপার’ ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসতেই গোটা পরীক্ষাপদ্ধতির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। ইতিমধ্যেই তদন্তভার তুলে দেওয়া হয়েছে সিবিআইয়ের হাতে। অথচ এর মাঝখানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলেন ২২ লক্ষেরও বেশি (NEET-UG) পরীক্ষার্থী যাদের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
৩ মে অনুষ্ঠিত হয়েছিল NEET-UG ২০২৬ পরীক্ষা। কিন্তু পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্রের অংশ বিশেষ বাইরে চলে আসে বলে অভিযোগ। তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে এসেছে, প্রশ্নফাঁসের সম্ভাব্য উৎস হতে পারে প্রিন্টিং প্রেস কিংবা প্রশ্নপ্রণেতা মহল। এমনকি হাতে লেখা প্রশ্নপত্রও ঘুরতে দেখা গিয়েছে বলে সূত্রের দাবি। রাজস্থানে ইতিমধ্যেই ৪৫ জনের বেশি ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
NTA তাদের সরকারি বিবৃতিতে স্বীকার করেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য খতিয়ে দেখার পর এই পরীক্ষা (NEET-UG) “চালু রাখা সম্ভব নয়” বলেই সিদ্ধান্তে পৌঁছনো হয়েছে। অর্থাৎ, দেশের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলির একটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে— এমন বার্তাই স্পষ্ট হয়েছে এই ঘটনায়।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, এত বড় পরীক্ষার (NEET-UG) ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষা করতে ব্যর্থ হলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বছরের পর বছর ধরে প্রস্তুতি নেওয়া লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীকে এখন আবার নতুন করে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হতে হবে। বহু পড়ুয়া ইতিমধ্যেই মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও হতাশার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। অনেক পরিবারের আর্থিক অবস্থাও চাপে পড়েছে। কোচিং, যাতায়াত, থাকা-খাওয়ার বিপুল খরচের পর ফের পরীক্ষা মানে নতুন করে মানসিক ও শারীরিক লড়াই।
NTA জানিয়েছে, নতুন করে কোনও রেজিস্ট্রেশন করতে হবে না। আগের পরীক্ষাকেন্দ্র বহাল থাকবে এবং অতিরিক্ত ফি নেওয়া হবে না। এমনকি পরীক্ষার জন্য জমা দেওয়া ফি ফেরতও দেওয়া হবে। নতুন অ্যাডমিট কার্ড ইস্যু করা হবে এবং পুনঃপরীক্ষার দিনক্ষণ পরে ঘোষণা করা হবে।
(NEET-UG) কিন্তু প্রশ্ন উঠছে অন্য জায়গায় — শুধু পরীক্ষা বাতিল করলেই কি দায়িত্ব শেষ? যে ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয়, সেই ব্যবস্থার ভিত এত দুর্বল কেন? প্রতি বছরই বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, জালিয়াতি বা দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। অথচ কড়া নজরদারি ও প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার দাবি সত্ত্বেও বারবার একই ছবি কেন দেখা যাচ্ছে?
অতীতেও একাধিক সর্বভারতীয় পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। ২০২৪ সালে NEET-UG পরীক্ষাকে ঘিরেও গ্রেস মার্কস ও প্রশ্নফাঁস বিতর্ক দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি করেছিল। একই বছরে UGC-NET পরীক্ষাও বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল কেন্দ্র, কারণ পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র ডার্ক ওয়েবে ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠে। এর আগে বিভিন্ন রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগ, পুলিশ নিয়োগ থেকে শুরু করে SSC পরীক্ষাতেও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। বারবার একই ধরনের ঘটনা প্রমাণ করছে, দেশের পরীক্ষাব্যবস্থায় নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার ঘাটতি এখনও ভয়াবহভাবে রয়ে গিয়েছে। অথচ প্রতিটি পরীক্ষার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ, বহু পরিবারের স্বপ্ন এবং বছরের পর বছর পরিশ্রম। তাই শুধু তদন্ত নয়, পরীক্ষাপদ্ধতির গোড়া থেকে সংস্কার এখন আবশ্যক হয়ে পড়েছে।
এই ঘটনা শুধু একটি পরীক্ষার ব্যর্থতা নয় বরং গোটা পরীক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার গভীর সংকটকে সামনে এনে দিয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের মেধা, পরিশ্রম ও সময় যখন দুর্নীতির কাছে অসহায় হয়ে পড়ে তখন শিক্ষাব্যবস্থার উপর আস্থা নষ্ট হওয়াই স্বাভাবিক।
বর্তমানে নজর সিবিআই তদন্ত ও পুনঃপরীক্ষার দিকে। তবে এই ঘটনার পর স্পষ্ট যে শুধু দোষীদের গ্রেফতার করলেই হবে না — পরীক্ষাব্যবস্থাকেও নিরাপদ, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য করতে জরুরি ভিত্তিতে বড়সড় সংস্কার প্রয়োজন।
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নয়া সমীকরণ, বিজয়ের TVK-কে সমর্থন AIADMK-র: প্রশ্নফাঁসে ভরাডুবি পরীক্ষাব্যবস্থা, বাতিল NEET-UG, অনিশ্চয়তায় ২২ লক্ষ ছাত্রছাত্রী










1 thought on “প্রশ্নফাঁসে ভরাডুবি পরীক্ষাব্যবস্থা, বাতিল NEET-UG, অনিশ্চয়তায় ২২ লক্ষ ছাত্রছাত্রী”